খুলনা | বুধবার | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

তামাকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে

|
১২:০৩ এ.এম | ২৩ নভেম্বর ২০২৩


তামাক দিয়ে শুধু বিড়ি, সিগারেটই তৈরি হয় না, বরং জর্দা, গুল, চুরুট, হুক্কা ইত্যাদি তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায়, এ দুই ধরণের তামাকই দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭ হাজারের বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, যার মধ্যে ৭০টি রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি ক্যান্সার হওয়ার জন্য দায়ী।  
একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, ‘তামাকজনিত রোগে দিনে প্রাণ হারায় ৪৪২ জন’। তা আমাদের কিছুটা হলেও আতঙ্কগ্রস্ত করবে। তবে এ থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে, তা নিয়ে ভাবাই হবে জরুরি কাজ।
তামাকজনিত রোগের ক্ষতির কথা বলে শেষ করা যাবে না। তামাক পাতায় পাঁচ হাজার টক্সিন থাকে; বিশেষ করে নিকোটিন মানবশরীরে প্রবেশ করে নানাবিধ জটিল রোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা হ্রাস করে। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০১৮-এর জরিপ মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। অন্যদিকে ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ ধূমপান না করেও বিভিন্নভাবে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। তবে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও ৭ শতাংশ তামাকের ব্যবহার করে থাকে।
সরকার তামাকপণ্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন এসব পণ্যে শুল্কহার বৃদ্ধি করেছে, বিভিন্ন ধরণের মিডিয়ায় তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিরোধ) আইন ২০০৫ প্রণয়ন করেছে। আইন মতে, পাবলিক পরিবহন এবং খোলামেলা স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ হলেও হরহামেশাই অনেককে এসব স্থানে ধূমপান করতে দেখা যায়। ফলে চারপাশের যাত্রী ও পথচারীরাও তামাকজাত পণ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। এ দেশের সর্বত্র সবার কাছে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। তাই শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথার্থ বাস্তবায়ন করা জরুরি।
তামাকের অপব্যবহার প্রতিরোধ করার জন্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে এর নিরোধে ব্যক্তির সচেতনতার পাশাপাশি সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ