খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৯ ফাল্গুন ১৪৩০

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

এ এইচ এম জামাল উদ্দীন |
০১:২৩ এ.এম | ২৫ নভেম্বর ২০২৩


২৫ নভেম্বর-২০২৩ আজ পূর্ণ করলো খুলনাবাসীর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল, দক্ষিণ বাংলার আপামর জনতার আবেগ ও ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়’ পথপরিক্রমার ৩৩বছর। প্রতিষ্ঠার কাল বিচারে এ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশের নবম বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে বিদ্যমান ৫৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য ৫৩টি যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে খুলনাবাসীর আপোষহীন ও নিরবিচ্ছিন্ন দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের এক অনাবদ্য উপাখ্যান। সে উপাখ্যান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অধ্যায়। বিশ্বইতিহাসে বাঙালিরা যেমন মাতৃভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে  সংযোজন করেছে একটি নতুন অধ্যায় তেমনি খুলনাবাসীও একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্যে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করে সৃষ্টি করেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অধ্যায়। সে আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হওয়া যেমন প্রয়োজন তেমনি  ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও জন্য অপরিহার্য। ইতিহাসের জ্ঞান থেকে সৃষ্টি হয় দেশাত্মবোধ আর দেশাত্মবোধই জাতীয় জাগরণের প্রধান নিয়ামক। 
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ও নিষ্ঠাবান কর্মচারীরা যদি এ পবিত্র শিক্ষাঙ্গণের জন্মের ইতিহাস জানতে পারে তাহলে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের মধ্যে যে মমতা, আন্তরিকতা আর ভালোবাসা সৃষ্টি হবে তা একটি মহা শক্তিতে পরিণত হবে। সে শক্তির জোরে তারা যেমন শ্রেষ্ঠত্বের আসনে পৌঁছে যেতে পারবেন তেমনি এ বিদ্যাপীঠের সুনাম-সুখ্যাতিও বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবেন। ইতোমধ্যে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানজনক একটি স্থান করে নিতে পেরেছে, এজন্যে অবশ্যই আমরা খুলনাবাসী আনন্দিত এবং গর্বিত। আমরা শির উচিয়ে, বুক ফুলিয়ে বলতে পারি, “ধন্য হে প্রাণের বিদ্যাপীঠ। মভৈ: তোমাদের জন্যে অভিবাদন, অভিনন্দন-আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম বৃথা যায়নি, প্রয়োজন হলে তোমাদের তরে আবারো রাজ পথে ঝাঁপিয়ে পড়ব। এ প্রতিষ্ঠানকে তোমরা সন্ত্রাস, অস্ত্র, রক্তপাত, মাদক এবং সেশনজটমুক্ত রেখেছ যা গোটা দেশের জন্যে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এ ধারা অব্যাহত থাকুক অনন্তকাল। তোমাদের অনুসরণ করে ধন্য হোক গোটা জাতি। এ ক্ষেত্রে তোমরা এ জাতির অগ্রদূত।  তোমদের জন্য খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে নিরন্তর শুভেচ্ছা।” 
১৯৪৭ সালে যখন উপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে তখন বৃটিশ সরকার কর্তৃক গঠিত রেডক্লিফ রোয়েদাদ কমিশন বঙ্গ প্রদেশকে ভেঙে ৬০ শতাংশ ভূখন্ড হস্তান্তর করে পাকিস্তানের হাতে আর বাকি ৪০ শতাংশ দেয় ভারতকে। বঙ্গের পূর্বাংশকে বলা হয় পূর্ব বাংলা আর পশ্চিমাংশকে বলা হয় পশ্চিম বাংলা। ১৯৪৭সালের ১৪ আগস্টের পর বৃটিশ শাসকদের স্থলে বসে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী। সে দিন শাসকের পরিবর্তন ঘটলেও  চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটেনি। দেশভাগের সময় পূর্ববাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মাত্র একটি, যার নাম ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। পাকিস্তানী শাসনামলের ২৩ বছরে তৎকালীন ৪ বিভাগের ( ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা) তিন বিভাগে আরো পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছিল। সে গুলো হচ্ছে রাজশাহীর বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতে, চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে এবং এছাড়া ঢাকা বিভাগে বাংলাদেশ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাভারে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় নামে আরো তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় কিন্তু খুলনা বিভাগকে করা হয় নগ্নভাবে উপেক্ষা, চরমভাবে অবহেলা আর নির্দয়ভাবে বঞ্চিত। 
১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বপ্ন স্বাধীনতা অর্জিত হলে খুলনাবাসী নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তারা স্বপন দেখে, খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে,তারা মেডিক্যাল কলেজ পাবে, খুলনার আকাশে বিমান ওঠানামা করবে, ক্যাডেট কলেজে সন্তানকে ভর্তি করাতে দূর-দূরান্তে আর যেতে হবে না, সর্বোপরি খুলনা যেহেতু একটি বিভাগীয় সদর সেহেতু বিভাগীয় সদরে যা যা থাকা দরকার তার সবটাই খুলনা পাবে। খুলনাবাসী সর্বপ্রথম জানতে পারে ১৯৭৪সালের ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনে খুলনা বিভাগে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ দেশের প্রতিটি বিবেকবান ও সচেতন ব্যক্তির ধারণা ছিল স্বাধীনতার পর প্রথম যে বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে সেটি প্রতিষ্ঠিত হবে খুলনায়। কিন্তু না! আবারো স্বার্থবাদী ও কুৎসিত রাজনীতির অপশিকার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়টি তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তার নিজ এলাকার ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ার সীমান্তে দুলালপুর-শান্তিডাঙ্গা অজপাড়া গাঁয়ে স্থাপন করেন  (কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)। স্বাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টিও খুলনাবাসী পেল না। তৎকালীন সেনা শাসক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী প্রভাব খাটিয়ে নিয়ে যায় সিলেটে। এবার নিরীহ, শান্তিপ্রিয় খুলনাবাসী আর ঘরে বসে থাকতে পারলেন না, তারা রাজ পথে নেমে আসেন। খুলনার প্রতিটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও ছাত্র সংগঠন এবং পেশাভিত্তিক সর্বস্তরের সংগঠন স্বস্ব অবস্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি পেশ করতে শুরু করেন। এ অবস্থায় আবারো মঞ্চস্থ হয় আরো একটি অপরাজনীতির কৌতুকপূর্ণ নাটক। খুলনা বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা সদরে হবে, স্থান নির্ধারনের প্রশ্নই অবান্তর। অন্য তিনটি বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগীয় সদরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে স্থান নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়নি কিংবা এ বিষয় নিয়ে কেউ প্রশ্নও তোলেননি। কিন্তু ব্যতিক্রম একমাত্র খুলনা বিশ্ববিদ্যায়ের ক্ষেত্রে। যশোরের কতিপয় বন্ধুরা নেমে পড়েন খুলনা বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় যশোরে চাই আবার এ দিকে বরিশালবাসীও চুপ থাকেননি তারাও খুলনা বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলিশালে চাই দাবি নিয়ে মাঠে নামেন (তখন বরিশালের ৬ জেলা খুলনা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল)। এ অবস্থায় খুলনার সকল সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে গঠন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি। এ কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত হন খুলনার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব প্রবীন আইনজীবী ও সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রী সভার সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ এইচ দিলদার  আহমেদ (খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে খুলনার এই কৃতি সন্তানের স্মৃতি অমর করে রাখতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন “দিলদার আহমেদ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়)। এই কমিটির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর খুলনাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গল­ামারিস্থ রেডিও পাকিস্তান খুলনার পরিত্যক্ত ৯৬.৯০ একর জমির ওপর খুলনা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে মর্মে স্থান নির্ধারণী নাম ফলক স্থাপন করে দেন। ঐ দিন রাতে বেতার টেলিভিশনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় খুলনায় হবে। এরপর শুরু হয় সয়েল টেস্টের নামে আরো একটি নাটক। কিন্তু খুলনাবাসী এবার নসরবান্দা। স্মারক লিপি প্রদান, কালোপতাকা উত্তোলন, গণঅনশন, অর্ধদিবস হরতাল, পূর্ণ দিবস হরতাল, বুলেটিন প্রকাশ, সংবাদ সম্মেলন - এর সবটাই খুলনাবাসী করেছেন। সবশেষে গঠন করা হয় এ্যাকশন কমিটি (এই কমিটির আহবায়ক মনোনীত হন এড, আবুল হাসান এবং যুগ্ম-আহবায়ক মনোনীত হয়েছিলেন এই প্রবন্ধের লেখক। এই কমিটিকে বলে দেওয়া হয়, যদি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা সদরে প্রতিষ্ঠা না করে তালবাহানা করে তাহলে সরকারি যত গাড়ি-গোড়া আছে তা ভেড়ে দিতে হবে।
যাই হোক এতো কিছুর পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি প্রস্তাবিত গল­ামারিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লে. জে. এইচ এম এরশাদ খুলনাবাসীর প্রাণের দাবি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই দিনের জনসমাবেশে উপস্থিতি স্মরণকালের সর্ববৃহৎ উপস্থিতি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ১৯৮৭সালের ১২জানুয়ারি নিযুক্ত হন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, ১৯৮৮সালের ২৫ ফেব্র“য়ারি দ্বিতীয় প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ নূরুল ইসলাম, তৃতীয় প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ১৯৮৮ সালের ২ আগস্ট নিযুক্ত হন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুর রহিম, চতুর্থ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ১৯৮৯ সালের ১ মে নিযুক্ত হন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এ বারী সর্বশেষ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট নিযুক্ত হন প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। ১৯৯০ সালের জুন মাসে জাতীয় সংসদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয় এবং জুলাই মাসে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ সালের ৩১ আগস্ট প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. গোলাম রহমান প্রথম ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিযুক্ত হন এবং তিনি ৩১ আগস্ট অনানুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন। ঐ বছরের ২৫ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাকার্যক্রমের উদ্ধোধন করেন। 
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম আরম্ভের ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রকল্প পরিচালক ও প্রথম ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. গোলাম রহমান সাহসী এবং দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১সালের ৬মে একাডেমিক কাউন্সিলের প্রথম সভায় আর্কিটেকচার, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, আরবান এন্ড রুরাল প্লানিং এবং ব্যবসায় প্রশাসন এই চারটি ডিসিপ্লিনে ভর্তির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জুলাই মাসে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে ব্যবস্থাপনা ডিসিপ্লিনে ভর্তি হন নাসরিন আক্তার নামে একজন ছাত্রী। ঐ সময় প্রথম চারটি ডিসিপ্লিনে ভর্তিকৃত ৮০জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯জন ছিল ছাত্রী এবং ৬১ জন ছাত্র। ইতিহাসে এই ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে সৌভাগ্যবান। 
যে বিশ্ববিদ্যালয় চারটি ডিসিপ্লিনে ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু বর্তমানে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯টি ডিসিপ্লিনে ৭ হাজার ৬৪৪ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ছে। এখন পর্যন্ত এখান থেকে ১৬ হাজার গ্রাজুয়েট বেরিয়েছে। এই সকল গ্রাজুয়েটগণ দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিদ্যাপীঠকে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে ডক্টরেট ডিগ্রী না থাকলে প্রফেসর পদ দেওয়া হয় না। এখানকার ছাত্র শিক্ষকের অনুপাত ১২:১ অর্থাৎ ১২জন ছাত্রের জন্য একজন শিক্ষক। ছাত্র-ছাত্রীদের মাথা পিছু বার্ষিক ব্যয় ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্মানে ৫২৯জন শিক্ষক, ৩৪৪জন কর্মকর্তা এবং ৫০০ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। এখানে ৩৪জন বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছেন।
আজ ২৫ নভেম্বর ২০২৩ পথ চলার ৩৩ বছর পূর্তিতে খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সেই সঙ্গে খুলনাবাসীকেও অভিবাদন জানাচ্ছি, কারণ সে দিন তারা হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে যে আন্দোলন করেছেন তারই ফসল এই বিদ্যাপীঠ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় খুলনার গৌরব বৃদ্ধি করেছে, আমরা আশা করি এ ধারা আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে সেশনজট, সন্ত্রাস, হল দখল, চাঁদাবাজী, গণমিছিল, গণমিটিং সেখানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। খুলনাবাসীর প্রাণের, গর্বের ও গৌরবের প্রতিষ্ঠান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় তোমায় অভিবাদন। ১০৭ একর জমি এহেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। আরো ২০০ একর জমির প্রয়োজন। জমির অভাবে মাঠ গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে। এ দিকে সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা নাম ধারণ করে খুলনার মাটিতে অবস্থান করলেও এখানে লেখা-পড়া করছে গোটা দেশের প্রতিটি জেলার ছাত্র-ছাত্রী। বর্তমানে শিক্ষা ও গবেষণার মূল্যায়নে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে, সামগ্রিকভাবে চতুর্থ স্থানে। একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটা গর্বের এবং গৌরবের। সকলের চেষ্টায় এবং যতেœ এ বিদ্যালয়তন হয়ে উঠুক শুধু খুলনার নয় গোটা জাতির। বৃটিশদের আছে অক্সফোর্ড, ক্যাম্ব্রিজ- এক দিন যেন আমারও বলতে পারি আমাদের আছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। পথ চলার ৩৩ তম বর্ষ পূর্তিতে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 
লেখক : এএইচ এম জামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটির পরিচালক।  

প্রিন্ট

আরও সংবাদ