খুলনা | বুধবার | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

মোংলা বন্দরের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মোংলা প্রতিনিধি |
০৫:৪০ পি.এম | ০১ ডিসেম্বর ২০২৩


খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, এক সময়ের মৃত বন্দর আজ বিশ্বের দরবারে একটি আর্ন্তজাতিক মানের বন্দরে রুপান্তিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার জন্য বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে যা এখন চলামান রয়েছে। একটি বন্দরে প্রান হলো মুল চ্যানেল, বন্দরের সেই পশুর চ্যানেল নাব্যতা রক্ষায় আউটারবার ড্রেজিং শেষ করে এখন ইনার বার ড্রেজিং চলছে। এছাড়া, কার্গো ও কন্টেইনার সংরক্ষণের সুবিধাদি বৃদ্ধি এবং আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ করা। আধুনিক কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, গাড়ী ইয়ার্ড নির্মাণ, জয়মনিরঘোলে মাল্টি-পারপাস জেটি নির্মাণ, আকরাম পয়েন্টে ভাসমান জেটি নির্মাণ, হিরণ পয়েন্ট পাইলট ষ্টেশনের উন্নয়ন ও সস্প্রসারণ এবং জ্যাফর্ড পয়েন্টে  লাইট হাউজ ও ভবন নির্মাণ, যাবতীয় সুবিধাদিসহ হ্যালিপ্যাড ও হ্যাঙ্গার নির্মাণ ও হেলিক্যাপ্টার ক্রয়, উদ্ধারকারী জলযান সংগ্রহ সহ আরো অনেক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে এ বন্দরকে ঘিড়ে। যার এক মাত্র অবদান বর্তন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) মোংলা বন্দরের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যাপক উৎসব উদ্দিপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এক সময়ের মৃত বন্দর থেকে নতুন ভাবে উজ্জিবীত হওয়া সম্ভাবনাময় এ সমুদ্র বন্দর আগামী দিনের আশা-প্রত্যাশা নিয়ে সকলের সম্মিলিত ভাবে অনৃুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আঃ খালেক। এসময় সরকারী পদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা, বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তা, বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, মোংলা প্রেস ক্লাব সদস্যরা, সিবিএ নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বন্দর সুত্রে জানা যায়, ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে সুন্দরবনের পাশে প্রকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা পশুর নদীর পাড়ে স্থাপিত করা হয় এ সমুদ্র বন্দরটি। প্রথমে চালনা বন্দর নামে মোংলায় যাত্রা শুরু করে দেশের সম্ভাবনাময় এ সমুদ্র বন্দরটি। ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর বন্দরে বিদেশি একটি ব্রিটিশ বণিক জাহাজ দি সিটি অব লিয়নস্ মোংলা বন্দরে প্রথম নোঙ্গর করে। সমুদ্রগামী জাহাজ নোঙরের ক্ষেত্রে মোংলা অধিকতর সুবিধাজনক হওয়ায় ১৯৫৪ সালে বন্দরটি চালনা থেকে মোংলায় স্থানান্তর করা হয়। তখন মোংলা বন্দর দীর্ঘদিন ধরে চালনা নামেই পরিচিত ছিল। বন্দর প্রতিষ্ঠার পর এটি প্রথমে চালনা অ্যাঙ্কর পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ‘চালনা পোর্ট কর্তৃপক্ষ এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সাল থেকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ হিসাবে যাত্রা শুরু করে।

দীর্ঘতম সময়ের সকল চরাই-উৎরাই পার করে মোংলা বন্দর ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করলো বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় টায় বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পন্য আমদানী-রপ্তানীকারক ব্যাবসায়ীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়। এর পর শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠা বাষির্কীর শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি সিটি মেয়র তালুকদার আঃ খালেক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী সহ বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত বছরের বিভিন্ন পন্য বোঝাই দেশী-বিদেশী জাহাজ আগামনের রেকর্ড সৃস্টি করাসহ নানা বিষয় আলোচনা করবেন মোংলা বন্দর চেয়ারম্যান। এছাড়া উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে নানা বিষয় সকলেন সামনে বক্তব্য রাখবেন বন্দর চেয়ারম্যান।

সকাল ১০ টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠ, বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী শুভেচ্ছা বক্তব্য, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কর্তৃক কেক কাটা, সকাল ১১ টায় সর্বোচ্চ বন্দর ব্যবহারকারীদের ক্রেস্ট প্রদান, কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য নির্বাচিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ক্রেস্ট প্রদান, বিদায়ী কর্মকর্তা কর্মচারীদের ক্রেস্ট প্রদানসহ নানা কার্যক্রম করেন প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বন্দর চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বন্দর সদর দপ্তর মোংলা ও খুলনাস্থ বন্দর এলাকায় আলোকসজ্জা করা হয়। রাত ১২ টা ১ মিনিটে বন্দরে অবস্থানরত দেশী, বিদেশী সকল জাহাজে একমিনিট বিরতিহীন হুইসেল বাজানো হয়। বন্দরের অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদে দোয়া মোনাজাত আয়োজন করেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মোংলা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, মোংলা বন্দরে চলমান চ্যানেল ড্রেজিং এর ফলে সম্প্রতি ৬০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে বন্দরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ এমভি মানা সরাসরি মোংলা বন্দরে আগমন করে। এছাড়াও বন্দর জেটিতে ৮.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজও আগমনের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এ বন্দর। তাই মোংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল বন্দরে রুপান্তিত করার লক্ষে এবং অচল বন্দরকে সচল ও উন্নয়নে গুরুত্ব পূর্ন অবদান রাখায় বন্দরে ব্যাবসার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আরো উদ্দ্যোগেী এবং সহনশীল হয়ে মোংলা বন্দরের সুনাম রক্ষায় সকলের সহযোগীতার আহবান জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ। ১৯৫০ সালের এ দিনে চালনা এ্যাংকারেজ পোর্ট নামে মোংলা সমুদ্র বন্দরের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নানা সমস্যা মোকাবেলা করে পণ্য আমাদানী-রপ্তানী ও  সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে আসছে মোংলা সমুদ্র বন্দর, যা আগামী দিনেও এ উন্নয় ও অগ্রগতী অব্যাহত থাকবে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ