খুলনা | শুক্রবার | ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

গাজায় যুদ্ধবিরতি শেষে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে ১০৯ ফিলিস্তিনি নিহত

খবর প্রতিবেদন |
১২:৫১ এ.এম | ০২ ডিসেম্বর ২০২৩


ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার পরপরই শুক্রবার গাজায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে একদিনে নতুন করে ১০৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া বিমান হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ।
গত শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) হামাসের সঙ্গে প্রথমে চারদিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল ইসরায়েল। এরপর দুই দফায় এটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি হামাস-ইসরায়েল। এরপর শুক্রবার সকাল থেকেই নির্বিচারে ছোট্ট এ উপত্যকায় হামলা চালানো শুরু করে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। এতে একদিনে একশ’রও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলিদের নতুন হামলা থেকে বাদ যায়নি সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়িও।
আল জাজিরার সংবাদদাতা তারেক আবু আজুম দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস থেকে জানান, দক্ষিণ অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। যদিও ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিকদের পালাতে অঞ্চলটিকে নিরাপদ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তিনি বলেন, গেল এক ঘণ্টা ধরে আমরা ইসরায়েলের ভারী বোমাবর্ষণের মধ্যে রয়েছি।
এদিকে ফের হামলা শুরুর পর থেকে কাতার ও মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীরা ইসরায়েল ও হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছে।  
সূত্রটি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বাধে। দেড় মাসের বেশি সময় লড়াই চলার পর দুইপক্ষ যখন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়; তখন আশা তৈরি হয়েছিল এ যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।
তবে ইসরায়েল প্রথম থেকেই হুমকি দিয়ে আসছিল, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেই তাদের হামলা শুরু হবে।
যুদ্ধবিরতির আগে গাজায় ১৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছিল। এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে থাকবে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার মিসরের সীমান্তবর্তী রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা বলেছে, গত সাতদিনের যুদ্ধবিরতিতে যে পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম গাজায় এসেছে; সেগুলো দিয়ে আহত মানুষদের মাত্র একদিন চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাবে। 
গাজায় যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিন ছিল বৃহস্পতিবার। দেড় মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর গেল ২৪ নভেম্বর প্রথমবারের মতো চার দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।  
প্রথম দফার পর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়াতে একমত হয় দুই পক্ষ। এরপর গত মঙ্গলবার শুরু হয় আরও দুই দিনের যুদ্ধবিরতি। এটি শেষ হয় বুধবার। এরপর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়াতে আলোচনা চালিয়ে যায় মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিসর। পরে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এক দিনের জন্য বাড়ে। 
সূত্র: আলজাজিরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ