খুলনা | বুধবার | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

মাওলা বক্স |
০১:১৫ এ.এম | ০২ ডিসেম্বর ২০২৩


আজ বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের দ্বিতীয় দিন। আজ থেকে ৫২ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই সময়ে বাংলার দামাল সন্তানেরা জননীতুল্য দেশকে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে উদ্ধার করে চির মুক্তির সন্ধানে প্রচন্ড গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। আর প্রতিদিন কোণঠাসা হতে থাকে পাক বাহিনী। নভেম্বরের শুরু থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করতে থাকে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগ দেয় ভারতীয় বাহিনী। সাথে সাথে পুরো দেশজুড়ে চলছিল গণপ্রতিরোধ। প্রতিদিন মুক্তিবাহিনীর কাছে নাস্তানাবুদ হচ্ছিল পাক বাহিনী। তারই মাঝে একদিন মুক্তিযোদ্ধারা দিনাজপুরে আকস্মাৎ এমন এক হামলা চালায় যার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না পাকিস্তান বাহিনী। সেখানে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে একত্রিত হয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। মুক্তিবাহিনী পঞ্চগড় মুক্ত করে এগিয়ে চলছিল ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে।
পাক হানাদার বাহিনীর হামলায় একাত্তরের এই দিনে রামপুরা ও মালিবাগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন। ডিসেম্বরের এ সময়টাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে তখন মুক্তিবাহিনীর সাফল্যের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার হতে শুরু করে।
৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধারা যখন রাজধানীকে দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢাকার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন পাকিস্তান বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছিল নানা অপপ্রচার। এ দিকে প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্র“মুক্ত করার প্রত্যয়ে প্রতিদিন শহিদ হচ্ছিলেন হাজারো মুক্তিকামী জনতা। হানাদার বাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছিল না মা বোনেরা। এ সময়ে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামের পথে পথে শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। সম্মুখযুদ্ধ চলে আখাউড়া রেল স্টেশনেও। একাত্তরের এই দিনে ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী। তবুও অদম্য সাহস আর প্রবল দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যায় তাদের আসন্ন বিজয়ের অভেদ্য লক্ষ্যে।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্য স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে যে কটি রণ সঙ্গীত প্রচার করা হতো তার ভেতর এ গানটি অন্যতম। বাংলার দামাল ছেলেরা দীপ্ত কঠিন শপথ নিয়ে দেশ মাতৃকাকে হানাদার মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব সঙ্গীত ছিল তাদের চলার পথের পাথেয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ