খুলনা | শুক্রবার | ২৬ জুলাই ২০২৪ | ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

মেধাসম্পদ অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন

|
১২:৩৩ এ.এম | ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩


রাজধানীতে গত বৃহস্পতিবার অ্যামেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মেধাসম্পদ অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, এ বিষয়ে গুরুত্ব দিলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে। এ সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগের প্রধান জোসেফ গিবলিন বলেছেন, আমেরিকা মেধাসম্পদের অধিকারকে খুব গুরুত্ব দেয়। একটি পণ্যের ব্র্যান্ড মূলত নির্ভর করে মেধাসম্পদের অধিকারের ওপর। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গুরুত্ব অনেক, কিন্তু সঠিকভাবে মেধাসম্পদ অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে তা বিপদ ডেকে আনবে। আলোচনা সভায় অ্যামচ্যাম সভাপতি সাইয়্যেদ এরশাদ আহমেদ বলেন, মেধাসম্পদ অধিকার একটি দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে আর বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা ব্যাপক, বিশেষ করে ওষুধ শিল্পে। এসব বক্তব্য থেকেই ধারণা করা যায় মেধাসম্পদ অধিকারের গুরুত্ব কতটা।
মেধাসম্পদ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দেশে সৃজনশীল সৃষ্টিকর্মের কপি বা পুনরুৎপাদন, অবৈধ ব্যবহার ইত্যাদি রোধে আইন বা বিধান রয়েছে। আমাদের দেশেও রয়েছে এ আইন। স¤প্রতি ২০০০ সালের কপিরাইট আইনকে রহিত করে নতুন আইন করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে মেধাসম্পদ অধিকারের বিষয়টিকে এখনো সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ বিষয়ে সচেতনতারও অভাব রয়েছে। তাছাড়া আইন বলবৎ করার সক্ষমতারও রয়েছে ঘাটতি। এ কারণে দেশে লেখক, কবি, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী, বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্ভাবকরা তাদের সৃষ্টিকর্ম বা পণ্যের প্রাপ্য স্বীকৃতি ও রয়্যালটি থেকে বঞ্চিত হন। তাই কপিরাইট আইন প্রয়োগে বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কাস্টমসের সক্ষমতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো উচিত বলে মনে করি আমরা। কপিরাইট আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দেশে নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন হওয়ার বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এসব উদ্ভাবনের নিরাপত্তায় বা সুরক্ষায় মেধাসম্পদ অধিকার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ