খুলনা | বুধবার | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

যে কারণে শ্রম আইনে সায় দেননি রাষ্ট্রপতি

খবর প্রতিবেদন |
০১:০৮ এ.এম | ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩


সংসদে পাস হওয়া ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৩’- এ সম্মতি না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। পাস হওয়া বিলের একটি দফার কারণে বিভ্রান্ত সৃষ্টি হতে পারে, এমন বার্তা দেওয়া হলে বিলটি ফেরত পাঠানো হয়। 
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি একাদশ সংসদের কোনও অধিবেশন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা না থাকায় রাষ্ট্রপতির ফেরত পাঠানো এবিলটি তামাদি হয়ে যাবে। নতুন সংসদে বিলটির বিষয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবার পাস করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনে (২৫তম) গত ২৯ অক্টোবর ২০০৬ সালে প্রণীত বাংলাদেশ শ্রম আইনের বেশ কয়েকটি ধারায় সংশোধন এনে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৩’ সংসদে তোলা হয়। পরে মাত্র তিন দিনের সময় দিয়ে সংসদে রিপোর্ট উপস্থাপনের জন্য বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। সংসদীয় কমিটি রিপোর্ট পাঠানোর পর গত ২ নভেম্বর বিলটি সংসদে পাস হয়।
বিলটি পাস হওয়ার পর তা আইনি পরিণত করার বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে ৮ নভেম্বর তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ওই বিলে সম্মতি না দিয়ে বার্তাসহ ২০ নভেম্বর সংসদ সচিবালয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় লিখেছেন ‘এই বিলের দফা-৪৫ বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়। কাজেই এই দফা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানো হলো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের আইন শাখার যুগ্ম-সচিব নাজমুল হক বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি একটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিলটি ফেরত পাঠিয়েছেন। একাদশ সংসদের কোনও অধিবেশন বসার আর কোনও সম্ভাবনা না থাকায় বিলটি তামাদি হয়ে যাবে। ফলে এটাকে আবার নতুন করে সংসদে তোলার প্রয়োজন হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৯৪ ধারার দু’টি উপধারায় বেআইনি শ্রমিক ধর্মঘট এবং মালিকপক্ষের বেআইনি লক-আউটের ক্ষেত্রে যে শাস্তি ছিল, তার কিছুটা সংশোধন প্রস্তাব করা হয়। ওই আইনে কোনও শ্রমিক কোনও বেআইনি ধর্মঘট করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হওয়ার বিষয়টি রয়েছে। কোনও মালিকও কোনও বেআইনি লক-আউট করলে ঠিকই একই শাস্তির মুখোমুখি হবেন বলে আইনি বিধান করা হয়। 
তবে ২০২৩ সালে আইনটির যে সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস হয়েছে, সেখানে শ্রমিকদের বেআইনি ধর্মঘটের ক্ষেত্রে জরিমানা ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। কিন্তু মালিকদের ক্ষেত্রে জরিমানা আগের সমপরিমাণই (৫ হাজার টাকা) রাখা হয়েছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ