খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১১ বৈশাখ ১৪৩১

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের দৈনন্দিন বরাদ্দ খাবার হরিলুট!

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর |
০১:৩৩ এ.এম | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩


২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দৈনন্দিন ভর্তি রোগীদের বরাদ্দকৃত খাবার হরিলুট করে কুক মশালচী থেকে শুরু করে একটি চক্র গাড়ী মালিকসহ বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছেন। যার কারণে পিয়ন এখন কুক মশালচীর দায়িত্ব নিয়ে তিনিসহ চক্রটি আঙ্গুল ফুলে গলা গাছ হয়ে যাওয়ার মতো দাঁড়িয়েছেন।
হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছেন, হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের যে মানের খাবার দেওয়া হয় তার মান খুব নিম্ন। রোগীদের জন্য সরকার কর্তৃক মাসে দৈনন্দিন তালিকায় যে মেনু রয়েছে তা না দিয়ে পরিমানে কম দিয়ে চক্রটি নিজের পকেট ভারী করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য প্রতিদিন দুই বেলা চাল বরাদ্দ ১১০ কেজি। অথচ রান্না করা হয় ৩০ থেকে ৩২ কেজি চাল।  প্রায় ৭০ কেজির অধিক পরিমাণের চাল কম দিয়ে রান্নার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিসহ চক্রটি বাকী তাদের বাঁচানো চাল নিজের দখলে রেখে সুযোগ বুঝে বিক্রি করে। শুধু তাই নয়, রান্নার কাজে প্রতিদিন জ্বালানী কাঠ ব্যবহার করার কথা ৩ মণ। কুক মশালচী দায়িত্বে নিয়োজিত এমএল এসএস আব্দুল মালেক ব্যবহার করেন ১ মণ। বাকী কাঠ অন্যত্র সরিয়ে নিজের পকেট ভারী করেন। 
সূত্রগুলো আরো দাবি করেন, রোগীদের জন্য রান্নায় পিঁয়াজ, রসুন, আদা প্রতিদিন ২ হাজার টাকা ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও ব্যবহার করা হয় ৩শ’ টাকার মসল­া। রান্নায় প্রতিদিন ৩ কেজি তেল দিয়ে রান্নায় খরচ হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবহার করা হয় ১ কেজি। এভাবে রান্নায় পটুয়া দাবি করে এমএল এসএস আব্দুল মালেক এখন লাখোপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। আব্দুল মালেকের পূর্বে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য রান্নার কাজে দায়িত্ব পালন করেন ফারুক। বর্তমানে মালেকের বাড়ি যশোরের মণিরামপুরে। সে পরিবার নিয়ে থাকে শেখহাটি গ্রামে। রান্না ধরে দায়িত্ব পালন করে কুক মশালচী ফারুক বিভিন্ন স্থানে বাড়ি করেছেন ৩টি। মালেক ফারুকের টার্গেট নিয়ে এমএল এসএস হয়েও তার যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে সে হয়েছে কুক মশালচী। রান্না ঘরে খাদ্য পরিবেশক হিসেবে ইষ্টওয়ার্ড দায়িত্বে রয়েছেন শাহজাহান। তিনি কাগজকলমে হিসাব কষেন। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভর্তি রোগীদের জন্য প্রতিদিন সকালে নাস্তায় দু’টি ডিম, দু’শ’ গ্রাম পাউরুটি, দু’টা কলা। অথচ দেয়া হয় ১ডিম, ১টি কলা ও ৫০ গ্রাম পাউরুটি। সপ্তায় দু’দিন খাশির মাংস, মুরগী, রুই মাছ দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয় না। 
হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫০ রোগীর খাবার থাকার কথা থাকলেও খাবার থাকে ১শ’ ৭০ জনের। আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে খাবারের মান খারাপসহ তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তাছাড়া, ইস্টওয়ার্ড শাহজাহান রান্নার উপকরণ তাকে বুঝে দেন। 
খাদ্য পরিবেশক দায়িত্বে শাহজাহানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, খাবারের মান ভাল করার জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকেন। দুই একটা অভিযোগ উঠতে পারেন। তাছাড়া তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে রোগীদের জন্য খাবারের সরবরাহকারী হিসেবে সফিকুর রহমান ও হাফিজুর রহমান নিয়োজিত রয়েছেন। খাবারের চাহিদা মোতাবেক ও তালিকা অনুযায়ী তাদের কাছে ভর্তিকৃত রোগীদের দৈনন্দিন বরাদ্দকৃত খাবার হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কথা। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রতিদিন রোগীদের যে মানের খাবার দেওয়া কথা তা না দিয়ে চক্রটি নিজের পকেট ভারী করছেন এমন অভিযোগ সকলের মুখে মুখে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ