খুলনা | শুক্রবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১

কলেমতেজী এলাকার আগুন নিভলেও, জ্বলছে সুন্দরবনের তেইশের ছিলা-শাপলার বিল এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
১১:৩৩ পি.এম | ২৩ মার্চ ২০২৫


সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজী টহল ফাঁড়ির এলাকার আগুন নিভতে-না নিভতেই তেইশের ছিলা-শাপলার বিল এালাকায় নতুন করে আগুন লেগেছে। রবিবার (২৩ মার্চ) সকালে কলমতেজী এলাকা থেকে থেকে ড্রোণ উড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরের ওই এলাকায় আগুনের অস্তিত্ব দেখতে পায় বন বিভাগ। তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা, কলমতেজি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ওই্ এলাকায় ছুটে আসেন। দুপুর একটা থেকে আগুন লাগে স্থানে ফায়ার কেনো তৈরি শুরু করেন তারা।

এর আগে শনিবার সকালে কলমতেজী টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় আগুনের ধোঁয়া দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বন বিভাগকে জানায়। দুপুর থেকে বন বিভাগ, সিপিজি, ভিটিআরটি, টাইগার টিমের শত শত লোকজন কাজ শুরু করে। বিকেলের মধ্যে ফায়ার লাইন কাটা শেষ করে বন বিভাগ। সন্ধ্যার আগে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গেলেও পানি দিতে পারেনি। পানির উৎস্য দূরে হওয়াতে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।

শনিবার রাত ৯টা থেকে বন বিভাগের নিজস্ব পাম্প ও পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি দেওয়া শুরু করে। রাতভর চেষ্টায় আগুন নির্বাপনে সক্ষম হয় বন বিভাগ।

এদিকে, আগুন লাগার কারন অনুসন্ধানে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারি বনসংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ধানসাগর স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা বিপুলেশ্বর দাস ও কলমতেজি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে আগুন লাগার কারন অনুসন্ধান ও বনভূমির ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, নতুন করে আগুন লাগা এলাকায় লাইন কাটা সম্পন্ন করেছে বন বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবকরা। পানির উৎস দূরে হওয়াতে এবং নদীতে ভাটার কারণে বিকেল পর্যন্ত পানির পাম্প বসানো বা পানি ছেটানো যায়নি ওই এলাকায়। তবে সন্ধ্যার দিকে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস ভোলা নদীতে পাম্প স্থাপন করে পানি ছেটানোর জন্য পাইপ টানা সম্পন্ন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগ। তবে ভোলা নদীতে ভাটা থাকার কারণে পানি ছেটানো শুরু করা যায়নি।

ধানসাগর স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা বিপুলেশ্বর দেবনাথ বলেন, তেইশের ছিলা এলাকায় যে আগুন লেগেছে, তা আগের দিনে থেকে অনেক বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, যতদ্রুত সম্ভব আগুনে পানি ছিটানোর জন্য। তবে আমরা ফায়ার লাইন কাটা সম্পন্ন করেছি। এজন্য আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।  

পরিবেশ কর্মী নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনের কলমতেজী এলাকায় আগুন এবারই প্রথম নয়। আগেও অন্তত দুবার এখানে আগুন লেগেছে। সেই পোড়া গাছের কয়লা হয়ে যাওয়া গোড়ার অংশ এখনো আছে। এখানে মানুষ ও তাদের পোশা গরু, মহিষের অবাধ বিচরণ আছে। কিন্তু সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এমন অবাধ বিচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রতিবছর বর্ষার আগেই এই আগুন দেওয়া হয়। যেকোনো মূল্যে এদের প্রতিহত করতে হবে।

তবে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম জানান, রাত পৌনে ৯টা থেকে একটি পাম্প থেকে পানি ছিটানো শুরু করেছেন। কতক্ষনে এই আগুন নির্বাপন সম্ভব হবে তা জানাতে পারেননি তিনি। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমানও নিরুপন হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খুলনার সহকারী পরিচালক মোঃ আবু বক্কর জামান বলেন, যেখানে আগুন লেগেছে সেখান থেকে পানির উৎস্য অনেক দূরে। আমরা ঘটনাস্থল পর্যন্ত সরবরাহ পাইপ স্থাপন করেছি। তবে নদীতে ভাটা থাকায়, পানি ছেটানো শুরু করা যায়নি। জোয়ার আসলে পানি ছিটানো শুরু করতে পারব।