খুলনা | শুক্রবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১

খুলনায় নানা আয়োজন

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

মাওলা বকস্ |
১২:১৮ এ.এম | ২৬ মার্চ ২০২৫


৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ। ’৭১ এর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালিদের ওপর অতর্কিত গণহত্যা অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হয়। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে একটি ভূখন্ডের, যার নাম বাংলাদেশ। 
কর্মসূচি : দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।  
২৬ মার্চ সকালে ঢাকাসহ সারাদেশে প্রত্যুষে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। 
এছাড়াও জেলা ও উপজেলার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। দেশের সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। আজ সরকারি ছুটি থাকবে। দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা বাণী দিয়েছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজ সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ ও সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করবে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করছে। 
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা; মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি, হা-ডু-ডু ইত্যাদি খেলার আয়োজন করা হয়েছে। 
এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। দেশের সকল হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযতœ কেন্দ্রসমূহে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।
দেশের সকল শিশুপার্ক ও জাদুঘর সমূহ  উন্মুক্ত রাখা হবে এবং বিনা টিকিটে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর এবং ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা, বরিশাল ও চাঁদপুর বিআইডবি¬উটিএ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জাহাজসমূহ আজ সকাল ৯টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।
খুলনায় নানা অনুষ্ঠানসূচি : দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 
কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে। প্রত্যুষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হবে। ঐদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। 
সকাল নয়টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। একই স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। সুবিধাজনক সময়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন সুবিধাজনক সময়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। সুবিধাজনক সময়ে শিশু একাডেমিতে শিশুদের রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। 
সুবিধাজনক সময়ে সিনেমা হলসমূহে ও উন্মুক্তস্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন/প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হবে। সুবিধাজনক সময়ে হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদজোহর বা সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ঐদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে নৌ-বাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
খুলনার সকল পার্ক, জাদুঘর, গণহত্যা জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে সকল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা হবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন : দিবস উপলক্ষে দিবসের প্রত্যুষে গল­ামারী স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, নগরীতে কাগজের পতাকা দ্বারা সজ্জিতকরণ এবং আলোক দ্বারা সজ্জিতকরণ এবং সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে নগর ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। 
এছাড়া সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নগরীর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক ও লিনিয়ার পার্কে শিশুদের বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হবে। 
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় : দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৮টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে র‌্যালিসহকারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার/গল­ামারী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, বেলা ১১টায় চারুকলা স্কুলের আঙিনায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, অদম্য বাংলার সম্মুখে দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বাদ মাগরিব বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল, সকাল ৯টায় মন্দিরে প্রার্থনা।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবস  উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় অডিটরিয়ামে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বেলা ১১টায় ক্যাম্পাস্থ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য “দূর্বার বাংলা”-এর পাদদেশে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে অডিটরিয়ামে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, বেলা সাড়ে ১১টায় অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা, যোহর বাদ (দুপুর ১:৪৫ ঘটিকায়) বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
মহানগর বিএনপি : দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি । কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদ্বয়ের সাথে সাথে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৬টায় গল­ামারি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা।
খুলনা বিএনপি : দিবস উপলক্ষে বেলা ২টায় নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ তেঁতুলতলা মোড়ে সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। ওই সূর্যাদ্বয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলণ।     
খুলনা প্রেসক্লাব : দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুপুর ১২টায় ক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা।