খুলনা | রবিবার | ০৬ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১

আশাশুনির বিছটে ভাঙন রোধে রিংবাঁধের কাজ সম্পন্ন, স্বস্তি ফিরেছে বানভাসীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা ও আশাশুনি প্রতিনিধি |
০১:২৮ এ.এম | ০৫ এপ্রিল ২০২৫


টানা ৫ দিন পর আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন কবলিত বিছটের পাউবোর ভেড়িবাঁধের পাশে জিও টিউবের মাধ্যমে বিকল্প রিংবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার ভাটার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত¡াবধানে এবং সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতায় কাজ পরিচালনা করা হয়। ফলে শুক্রবার দুপুর থেকে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। 
জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন এবং সেনা বাহিনীর দু’টি টিম গত তিন দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে জিও টিউবের মধ্যে বালু ভরে সেখানে বিকল্প রিংবাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। অবশেষে শুক্রবার রিংবাঁধটি বাঁধতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে দুপুর থেকে ভাঙন কবলিত স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ভাঙন কবলিত মানুষের মধ্যে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো-২) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে জিও টিউব ব্যাগের মধ্যে বালু ভরে বিকল্প রিংবাঁধ দিয়ে প্রাথমিকভাবে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। আরো কিছু জিও টিউব সেখানে দেয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিংবাঁধের নির্মাণের সকল কাজ শেষ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে মূল ভেড়িবাঁধ তৈরির কাজ শুরু করা হবে।
গত ঈদ উল ফিতরের দিন সকাল ৮টার দিকে বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রায় দুইশ’ ফুট এলাকা জুড়ে ভেড়িবাঁধ হঠাৎ করেই ধসে ভিতরে পানি ঢুকতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসীর ঈদের আনন্দ ভেস্তে যায়। হাজার হাজার গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দফায় দফায় ভাঙ্গন পয়েন্টে বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও জোয়ারের তোড়ে ব্যর্থ হয়ে যায়। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়ে, পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বিঘা মৎস্য ঘের এবং ২১ হেক্টর জমির ফসল, ধক্ষসে গেছে শতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি। বিদ্যুৎ সমস্যা, সুপেয় পানির অভাব, মানুষের রান্না-খাবার, হাঁস-মুরগী ও গো-খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। বানভাসি মানুষ পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্র ও পাউবো’র বাঁধে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নেয়।