খুলনা | সোমবার | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

জুলাইয়ে সীমান্তে হত্যা ও পুশ ইন বেড়েছে : এমএসএফ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪১ এ.এম | ০১ অগাস্ট ২০২৫


জুলাই মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে সীমান্তে হত্যা ও দেশের ভেতরে লোকজনদের ঠেলে দেওয়া বা পুশ ইনের ঘটনা আগের মাসের চেয়ে বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনা।
বৃহস্পতিবার মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) দেওয়া জুলাই মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও মানবাধিকারকর্মীদের তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসে ফেনী, কক্সবাজার, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, সাতক্ষীরা, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, মৌলভীবাজার, শেরপুর, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ধাপে ধাপে অন্তত ১ হাজার ৫৬২ জনকে বাংলাদেশের ভেতরে পুশ ইন করেছে বিএসএফ। গত জুনে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১০২ জন। জুলাইয়ে সীমান্তে বিএসএফ’র ছোড়া গুলিতে ছয়জন নিহত হন। গত জুনে এই সংখ্যা ছিল ২।
এমএসএফ বলছে, বিএসএফ কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না; বরং অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে গত দুই মাস থেকে শুরু হওয়া পুশ ইন বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী নাগরিকদের মনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যাদের বাংলাদেশ ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি হলেও বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করার কারণে সেখানে তারা নিবন্ধিত এবং তাদের পরিচয়পত্রও রয়েছে। ভারতের এ ধরনের আচরণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। বর্তমানে বাংলা ভাষাভাষীসহ সিলেট, মৌলভীবাজার ও শেরপুর জেলা দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশ ইন করা হচ্ছে। ভারতের একতরফা পদক্ষেপ স্বীকৃত প্রত্যাবাসন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির লঙ্ঘন। ফলে সীমান্তে অস্থিতিশীল অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৮টি ঘটনায় শিকার হয়েছে ৫৯৩ জন। তাদের মধ্যে ৯ জন নিহত এবং ৫৮৪ জন আহত হয়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়।