খুলনা | শনিবার | ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

গত ১০ দিনে এক এএসপি ও এসআই বরখাস্ত

একের পর এক নারী কেলেঙ্কারিতে ইমেজ সংকটে বরিশালের পুলিশ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৫ এ.এম | ০২ অগাস্ট ২০২৫


নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বরিশাল মহানগর ও জেলা পুলিশের একাধিক সদস্য বরখাস্ত হয়েছেন। এ কারণে ইমেজ সংকটে পড়েছে বরিশাল পুলিশ। গত ১০ দিনে এক এএসপি ও সাব-ইন্সপেক্টর নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় বরখাস্ত হয়েছেন। এর আগে বরিশাল স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর আবুল বাসার ধর্ষণ মামলায় জেল হাজতে গিয়েছেন। একের পর এক পুলিশ কর্মকর্তাদের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় নগর জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাগুলো স্বাভাবিক ভাবে দেখছেন না সুশীল সমাজের নেতারা। সুজনের বরিশাল জেলার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, পুলিশ জনগণের নিরাপত্তার জন্য। সেখানে পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জোরালো পদক্ষেপ না নিলে সামনে পুলিশের প্রতি আস্থা হারাবে সাধারণ মানুষ।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগে বরিশাল রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) এএসপি আফজাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কনস্টেবলের স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এএসপিকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, স্বামীর সঙ্গে তার বিরোধ চলাকালীন বরিশাল রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে আসেন। সে সময় পরিচয় হয় এএসপি আফজাল হোসেনের সঙ্গে। এরপর এএসপি আফজাল বিভিন্ন সময়ে ওই নারীর মোবাইল ফোনে কল ও এসএমএসের মাধ্যমে অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকেন। বাধ্য হয়ে ওই নারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে এএসপি আফজালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এএসপি আফজালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এদিকে ২৩ জুলাই নগরীর বেলসপার্কে পরকীয়ার সময় কাউনিয়া থানার এসআই মাহাবুব শিমুলকে হাতেনাতে ধরে ওই নারীর স্বামী। সেই ঘটনায় এসআই মাহাবুবকে বরখাস্ত করেন মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম। এর কয়েক মাস আগে বরিশাল স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আবুল বাসার এক নারীকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ে না করায় এসআই বাসারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। সেই মামলায় বাসার জেলহাজতে গেলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। নারী কেলেঙ্কারী ছাড়াও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর ভূমিকা রাখবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এমনটাই আশাবাদ সাধারণ মানুষের।