খুলনা | রবিবার | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

রয়টার্সের অনুসন্ধান

যেভাবে ‘তীব্র আকাশযুদ্ধে’ ভারতের রাফাল ভূপাতিত করে পাকিস্তান

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৬ পি.এম | ০৩ অগাস্ট ২০২৫


ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাত চলাকালীন গত ৭ মে মধ্যরাতে ভারতের যুদ্ধবিমানের বহর আকাশে সক্রিয় হতেই পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অপারেশন রুমে বাজতে শুরু করে সতর্কবার্তা। স্ক্রিনে একে একে ভেসে ওঠে শত্রু বিমানের অবস্থান। কয়েকদিন ধরে অপারেশন রুমের পাশেই ম্যাট্রেসে ঘুমাচ্ছিলেন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির সিদ্দিকী। ভারতের সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কায় তিনি অবস্থান নিচ্ছিলেন সামনে থেকেই।

এর আগের মাসে ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরে এক সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন বেসামরিক মানুষ। ভারত অভিযোগ তোলে, এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করলেও নয়াদিল্লি হুঁশিয়ারি দেয় প্রতিশোধের। সেই প্রতিশোধ আসে ৭ মে ভোররাতে, পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ভারতীয় বিমান হামলার মাধ্যমে।

জবাবে সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তান তাদের চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক যুদ্ধবিমান জে-১০সি আকাশে ওড়ায়। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিমানবাহিনী প্রধান জাহির সিদ্দিকী সরাসরি রাফাল যুদ্ধবিমানকে টার্গেট করার নির্দেশ দেন। ফ্রান্সে তৈরি রাফাল হচ্ছে ভারতের বিমানবহরের সবচেয়ে আধুনিক ও সক্ষম যুদ্ধবিমান, যা এখনো পর্যন্ত কখনো কোনো যুদ্ধে ভূপাতিত হয়নি।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই যুদ্ধে অংশ নেয় দুই দেশের আনুমানিক ১১০টি যুদ্ধবিমান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকাশযুদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পাকিস্তানের জে-১০সি কমপক্ষে একটি রাফাল যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে চমক তৈরি করে। প্রশ্ন ওঠে—পশ্চিমা দেশের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গড়া সামরিক প্রযুক্তির বিপরীতে চীনের তুলনামূলক নতুন অস্ত্র কতটা কার্যকর হতে পারে।

ঘটনার পরপরই রাফালের নির্মাতা ফরাসি প্রতিষ্ঠান ডাসো অ্যাভিয়েশনের শেয়ারের দাম কিছুটা হ্রাস পায়। এদিকে রাফালের ক্রেতা ইন্দোনেশিয়াও জানায়, তারা এখন চীনের জে-১০ কেনার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় নিচ্ছে।

পাকিস্তান ও ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানায়, এই আকাশযুদ্ধে রাফালের পরাজয়ের মূল কারণ প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভুল বিশ্লেষণ। পাকিস্তানের জে-১০সি থেকে ছোড়া চীনা পিএল-১৫ মিসাইল সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছিল না ভারতের। ভারতীয় পাইলটরা ধরেই নিয়েছিলেন, মিসাইলটি ১৫০ কিলোমিটারের বেশি যেতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে পিএল-১৫ প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূর থেকেও রাফালকে ভূপাতিত করে।

এ ছাড়া পাকিস্তান একটি শক্তিশালী ‘কিল চেইন’ বা সমন্বিত যুদ্ধব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা আকাশ, স্থল ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তিকে সংযুক্ত করে একসঙ্গে ব্যবহার করে।

ফলে পাকিস্তানি জে-১০ যুদ্ধবিমানগুলো নিজস্ব রাডার বন্ধ রেখেও শত্রুঘেরা এলাকায় প্রবেশ করে এবং লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পাকিস্তান বলছে, ভারতের রাফাল ও সুখোই যুদ্ধবিমানের সেন্সর ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক হামলার মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল।

যদিও ভারতীয় কর্মকর্তারা রাফালের ক্ষেত্রে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তারা স্বীকার করেন যে, কিছু সুখোই বিমানে যোগাযোগের সমস্যা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেগুলোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর সরাসরি আঘাত না করার সিদ্ধান্ত নেয়—এটাই কিছু ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে দেয় ভারত। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও নজরদারি ব্যবস্থায় হামলা চালায় তারা। ১০ মে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা পাকিস্তানে অন্তত ৯টি বিমানঘাঁটি ও রাডার স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

এই সংঘর্ষের পর পাকিস্তান-চীন সামরিক সহযোগিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ভারতের উপ-সেনাপ্রধান অভিযোগ করেন, যুদ্ধ চলাকালে চীন সরাসরি পাকিস্তানকে রাডার ও স্যাটেলাইট ফিড সরবরাহ করেছিল। যদিও ইসলামাবাদ ও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

জুলাইয়ে পাকিস্তান সফর করেন চীনের বিমানবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং গ্যাং। পাকিস্তান কীভাবে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্যকরভাবে রাফালের বিরুদ্ধে ‘কিল চেইন’ তৈরি করল, তা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে বলে দাবি করেন পাক কর্মকর্তারা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সামরিক সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। এটি দ্বিপাক্ষিক স্বাভাবিক সম্পর্কেরই অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা প্রমাণ করে দিল—একটি যুদ্ধে কে জয়ী হবে তা নির্ভর করে কে কত আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করল তার ওপর নয়, বরং কার কাছে তথ্যভিত্তিক সঠিক কৌশল রয়েছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে রাফালের প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়—এ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল ভারতের গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতা। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের দুইজন ও পাকিস্তানের তিনজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

তাদের মতে, ভারতের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চীনের তৈরি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ধরা হয়েছিল মাত্র ১৫০ কিলোমিটার। সেই তথ্যের ওপর ভর করেই রাফালের পাইলটরা ধরে নিয়েছিলেন, তারা পাকিস্তানি ফায়ারিং রেঞ্জের বাইরে অবস্থান করছেন। কিন্তু বাস্তবে পিএল-১৫ মিসাইলটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে রাফালকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়।

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা ওদের ফাঁদে ফেলেছি। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ওই সময় ভারতের পাইলটদের বিভ্রান্ত করতে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার চালায়। যদিও ভারত এই ইলেকট্রনিক হামলার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

লন্ডনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ সংস্থা আরইউএসআই-এর এয়ার ওয়ারফেয়ার বিশেষজ্ঞ জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, ভারতীয়রা বুঝতেই পারেনি যে ওদের ওপর হামলা হতে পারে। আর পিএল-১৫ মিসাইল যে দীর্ঘপাল্লার, তা এখন প্রমাণিত।

ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাফালের ক্ষতির কথা স্বীকার করেনি। তবে ফ্রান্সের বিমান বাহিনীর প্রধান জুনে সাংবাদিকদের জানান, তিনি ভারতের রাফাল ও আরও দুটি যুদ্ধবিমানের ক্ষতির প্রমাণ দেখেছেন, যার মধ্যে একটি রুশ তৈরি সুখোই যুদ্ধবিমান ছিল।

এ ঘটনায় যেমন ভারতের সামরিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি চীনের প্রযুক্তির বিশ্ববাজারে প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিতও মিলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।