খুলনা | রবিবার | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর এলাকাবাসীর আবেদন

রূপসার তালিমপুর-জয়পুরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নদীর সাথে সংযোগ স্থাপনের দাবি

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:০২ এ.এম | ০৪ অগাস্ট ২০২৫


প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের রামনগর, তালিমপুর, জয়পুর ও নিকলাপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো জলাবদ্ধতা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। ভোগান্তির শিকার হয় হাজারো মানুষ। এমনকি তাদের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারি অফিসেও পানি ঢুকে যাওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে গত ২৭ জুলাই এলাকার ভুক্তভোগীমহল গণস্বাক্ষরিত আবেদনপত্র খুলনা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জমা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুল মান্নান, মোঃ নুরুজ্জামান, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোঃ আমিনুল ইসলামসহ শতাধিক ভুক্তভোগী।  
আবেদনে বলা হয়েছে, একসময় উপজেলার বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পূর্বদিকে রেললাইনের পাশে একটি বড় জলাশয় বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল। যা এলাকাজুড়ে পানি নিষ্কাশন হয়ে আঠারোবেকী নদীতে যেত। কিন্তু কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ঐ জলাধার বালু দিয়ে ভরাট করে দোকানপাট ও ভবন নির্মাণ করেছে। বিশেষ করে একজন ব্যক্তি জলাধারটি বালু ফেলে ভরাট করে সেখানে ভবন গড়েছেন এবং নিচ দিয়ে সরু পাইপ স্থাপন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে। এতে শুধু ঘরবাড়ি নয়, স্থানীয় নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও পানি ঢোকে। ২০২৪ সালের বর্ষা মৌসুমে অফিসের ভেতরে পানি ঢুকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র বিনষ্ট হয়। এ বিষয়ে অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে রূপসা উপজেলা ভূমি অফিসকে অবহিত করলেও আজও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। 
একই সমস্যায় পড়ে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। জলাবদ্ধতার ফলে শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পায়, রোগবালাই ছড়ায় এবং স্যানিটেশনের দুরবস্থা সৃষ্টি হয়। এলাকার মূল সরকারি অফিসটি যেখানে জনগণ নিয়মিত ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণে যায়, সেখানে পানি জমে থাকায় জনসাধারণের ভোগান্তি যেমন বাড়ে তেমনি সরকারি কাগজপত্রের স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ  তৈরি হয়। 
স্থানীয় লোকজন এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ওহেদুজ্জামান তাঁর প্রতিনিধি পাঠিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। 
জনগণের দাবিগুলোর সারসংক্ষেপ : ১. বাগমারা সরকারি বিদ্যালয় থেকে শুরু করে পূর্বমুখী ড্রেন সংস্কার করে তা আঠারোবেকী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা। ২. ভূমি অফিসের পশ্চিম পাশের হাফিজ সড়কের ড্রেন সংস্কার করে নদীর সাথে সংযোগ স্থাপন। ৩. তালিমপুর কদমতলা রান্তায় চলমান ড্রেন পুনঃখনন করে পানির পথ সৃষ্টি করা। ৪. কবরস্থান সংলগ্ন বটতলার পাশে ড্রেন খনন পূর্বক নদীর সাথে সংযোগ। ৫. জয়পুর ও তালিমপুর মৌজার সংযোগস্থলে অব্যবহৃত সরকারি ১০ ফুট জমিতে ড্রেন তৈরি করা।