খুলনা | শনিবার | ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের সাফল্য কোথায়

|
১২:৩১ এ.এম | ২৫ অগাস্ট ২০২৫


নির্বাচন সামনে রেখে অন্তর্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্বর্তী সরকারের এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। কিন্তু লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও জেল পলাতক আসামিদের আটক না করে সেটা সম্ভব নয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেও এ বিষয়ে অগ্রগতি কম। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭২০টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, বক্সসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট-স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় থানা-পুলিশের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি। এসব জায়গা থেকে ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। গোলাবারুদ লুট হয় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৩২টি।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যানেই দেখা যায়, লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি উদ্ধার করা যায়নি। এই অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যায় না।
গত ৪ এপ্রিল খুলনা মহানগরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেন ও খাইরুল সরদার নামের যে দুই যুবককে গ্রেফতার করে, তাঁদের কাছ থেকে দু’টি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান ও শটগানের সাতটি গুলি উদ্ধার করার কথা জানানো হয়। এগুলো পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র-গুলি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করেন, তিনি বিভিন্ন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুষ্কৃতকারীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা করে আসছিলেন। চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গুলিসহ আরিফ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় গত ১৭ এপ্রিল। পুলিশের ভাষ্য হলো লুটের অস্ত্র-গুলি ব্যবহার করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই-ডাকাতি করতেন আরিফ।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এর আগেও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু তাতে অপরাধীরা নিবৃত্ত হয়েছে বলে মনে হয় না। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রমবর্ধমান হারে যে খুন, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, তাতে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাই বেশি। কোথাও অপরাধ সংঘটিত হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা দেখায়। কিন্তু অপরাধ সংঘটনের আগেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চালাতে দেখা যায় না। এসব অপরাধী আকাশ থেকেও নেমে আসে না, মাটি ফুঁড়েও বেরিয়ে আসে না, তারা সমাজের ভেতরেই আছে। তাহলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ধরতে পারছে না কেন?
সরকার ইতিমধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফেব্র“য়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের জন্য যে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন, তা থেকে আমরা অনেক দূরে আছি। সামাজিক অপরাধের পাশাপাশি রাজনৈতিক হানাহানিও বেড়েছে, যা পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য থেকেই জানা যায়। যদিও সব অপরাধের তথ্য থানা-পুলিশের কাছে থাকে না।
সরকারকে মনে রাখতে হবে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি রুটিন কাজ হিসেবে দেখলে চলবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন তো বটেই, জননিরাপত্তার স্বার্থেই লুট হওয়া সব অস্ত্র অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে। সেই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো অবৈধ অস্ত্র আসতে না পারে, তা-ও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।