খুলনা | শুক্রবার | ২৯ অগাস্ট ২০২৫ | ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

ভারতে যৌতুকের কারণে দৈনিক গড়ে ২০ জন নারীর মৃত্যু হচ্ছে

খবর প্রতিবেদন |
০২:০৪ পি.এম | ২৮ অগাস্ট ২০২৫


ভারতে ২০১৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত চার বছরে যৌতুক সংক্রান্ত কারণে প্রায় ৩৬ হাজার নারীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর জরিপে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ তথ্য। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত যৌতুক সংক্রান্ত নির্যাতনে মোট ৩৫ হাজার ৪৯৩ জন নারী নিহত হয়েছেন। সেই হিসেবে যৌতুকের কারণে ভারতে গড়ে প্রতিদিন ২০ জন নারী মারা যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, পণপ্রথা শুধু দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়। উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী নারীর ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একইরকম।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভারতে এখনো বিয়ে মানেই একধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন। কনের পরিবার থেকে গাড়ি, গয়না, নগদ অর্থ ও বাড়িঘরের দাবি করা হয়। এই দাবির চাপ পূরণ করতে না পারলে নারী নির্যাতনের শিকার হন, অনেক ক্ষেত্রেই হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে।

বিদেশি গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৫০ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত ভারতে পণ বাবদ লেনদেনের পরিমাণ ২৫০ বিলিয়ন ডলার। একবিংশ শতাব্দীতেও প্রায় ৯০ শতাংশ বিয়েতে যৌতুক দেওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী, ভারতে ১৯৬১ সাল থেকে পণপ্রথা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি গৃহবধূ নির্যাতন প্রতিরোধে ১৯৮৩ সালে এই আইনে ৪৯৮(এ) ধারা যোগ করা হয়েছে। তবুও বদলায়নি বাস্তবতা। আদালতে প্রায়ই যৌতুককে ‘উপহার’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা অপরাধীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করছে।

মনোবিদরা বলছেন, যৌতুক কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ফল। সমাজে যৌতুককে পুরুষদের মর্যাদা ও কর্তৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ফলে নারী যত শিক্ষিত বা কর্মজীবী হোক না কেন, যৌতুকের চাপ থেকে তারা মুক্তি পান না।