খুলনা | রবিবার | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা দখলদার ইসরায়েলের, নিহত ছাড়ালো ৬৩০০০

খবর প্রতিবেদন |
১২:৪৭ এ.এম | ৩০ অগাস্ট ২০২৫


গাজা উপত্যকায় বৃহৎ শহর গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা দিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা সেখানে প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছে। এছাড়া এখন থেকে গাজা সিটিতে ত্রাণ সহায়তার জন্য আরও কোনো বিরতি দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে আইডিএফ। 
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা প্রাথমিক অভিযান এবং গাজা সিটিতে হামলার প্রাথমিক পর্যায় শুরু করেছি। আমরা গাজা সিটির উপকণ্ঠে পূর্ণ শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি।’
এর আগে গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ‘আজ (গতকাল শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে, কৌশলগত স্থানীয় সামরিক বিরতি গাজা সিটিতে আর কার্যকর হবে না। এখন থেকে গাজা সিটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র।’
তীব্র সমালোচনার মুখে গত মাসে আগে গাজায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করে ইসরায়েল। জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থাকে ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট একটি সময়ে গাজায় হামলা বন্ধ রাখতো দখলদাররা।
প্রসঙ্গত, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও আগস্টের শুরু থেকেই গাজা সিটির বিভিন্ন জায়গায় বোমাবর্ষণ করছিল ইসরায়েল। এছাড়া শহরটির উপকণ্ঠে তাদের ট্যাংকও অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় প্রতিদিনই বাড়ছে নিরীহ ফিলিস্থিনিদের প্রাণহানীর সংখ্যা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 
শুক্রবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২২৪ জন আহত ফিলিস্তিনিকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আনা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ২৫ জন, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এছাড়াও আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জনে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার হাসপাতালগুলো অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও ৫ জনের মৃত্যুর হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর ক্ষুধাজনিত কারণে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৩২২ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১২১ জনই শিশু।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় মানবিক সাহায্য পেতে গিয়ে ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এতে গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সাহায্য নিতে গিয়ে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২ হাজার ২০৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ১৬ হাজার ২২৮ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়াও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বহু ফিলিস্তিনি। 
মূলত, গত ২৭ মে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণ শুরু করার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তাদের খোলা চারটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। 
সূত্র: আল জাজিরা।