খুলনা | রবিবার | ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

স্ত্রী ও দুই সন্তানের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা, সেনাসদস্য কারাগারে

খবর প্রতিবেদন |
০২:১৩ এ.এম | ২৮ নভেম্বর ২০২৫


বগুড়ার শাজাহানপুরে সেনাসদস্যের বাসা থেকে তার দুই শিশু সন্তানের গলাকাটা এবং স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশের হেফাজতে থাকা সেনাসদস্য শাহাদাত হোসেনকে (২৭) কারাগারে পাঠানো হয়। 
বৃহস্পতিবার সকালে শাজাহানপুর থানায় নিহত সাদিয়া মোস্তারিমের (২২) মা রাবেয়া সুলতানা হত্যা মামলা করেন। মামলায় শাহাদাত হোসেনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও চার জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শাহাদাতকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানায় পুলিশ। 
পুলিশ জানায়, সকালে মামলার পর শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের খলিশাকান্দির মন্ডলপাড়া গ্রামের বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে সেনাসদস্য শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী সাদিয়ার ঝুলন্ত লাশ ও দুই শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের মেয়ে সাইফা (৩) ও ছেলে সাইফের (সাত মাস) লাশ বিছানায় পড়ে ছিল। নিহত সাদিয়া মুস্তারিমের বাবার বাড়ি শাজাহানপুরের ভান্ডারপাইকার গ্রামে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাবেয়া সুলতানার জামাতা সেনাসদস্য শাহাদাত হোসেন বাড়ি কেনার নাম করে তাদের কাছ থেকে দুই দফায় চার লাখ টাকা নিয়েছেন। কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেল কেনার পর বাবার বাড়ি থেকে আরও তিন লাখ টাকা আনতে সাদিয়াকে চাপ দেন। যৌতুকের টাকা না পেয়ে গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটের মধ্যে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেন শাহাদাত। এজাহারে শাহাদাত হোসেনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার জনকে আসামি করা হয়।
ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে এলাকাবাসী মারধরসহ মব সৃষ্টি করতে পারে, এমন আশঙ্কায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহাদাতকে থানায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সাদিয়ার মা রাবেয়া সুলতানা বাদী হয়ে শাহাদাতকে প্রধান আসামি করে মামলা করায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তানাধীন রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।’