খুলনা | শনিবার | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

পাবনায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ

অস্ত্রধারী যুবক জেলা জামায়াত আমিরের ভাতিজার সহচর

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৬ এ.এম | ২৯ নভেম্বর ২০২৫


পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অস্ত্রধারীর নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরপরই বেশ কিছু ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়। অস্ত্র হাতে গুলি করা ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে।
ওই যুবকের নাম তুষার মন্ডল। তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মন্ডলের ছেলে ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের অন্যতম সহচর।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহŸায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, ‘জামায়াতকর্মী তুষার মন্ডল প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি করেছে। এরই মধ্যে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তুষার জামায়াত নেতা আবু তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের সন্ত্রাসী সব কর্মকান্ডের অন্যতম সহযোগী।’
সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার বলেন, ‘আজকে (শুক্রবার) জামায়াতের পূর্ব নির্ধারিত কোনো গণসংযোগ ছিল না। গণসংযোগে কেউ কখনও গাড়ি ভর্তি করে অস্ত্র নিয়ে আসে না। মূলত পুরোনো ঘটনার সূত্র ধরেই আজকে মক্কেল মৃধা ও তার ছেলের ওপর হামলা করে তালেব মন্ডল ও তার সমর্থকরা। তালেব মন্ডল নিজে গাড়ি থেকে অস্ত্র বের করে তার কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, পাবনা জেলা বিএনপি’র আহŸায়ক ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘জামায়াতের নেতা-কর্মীরা গাড়িতে করে অস্ত্র নিয়ে গিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পরে ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসীর ধাওয়ার মুখে নিজেদের গাড়ি বহর ফেলে পালিয়েছে তারা। এ সময় সশস্ত্র জামায়াত কর্মীরা সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করে সেই দায় বিএনপি’র ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।’
তবে অস্ত্র হাতে ভাইরাল ওই যুবক জামায়াতের কর্মী নন বলে দাবি করেছেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অস্ত্র হাতে ওই যুবক আমাদের দলের কেউ না।’
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, বিএনপি-জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
সূত্র : যুগান্তর ও শীর্ষ নিউজ অনলাইন