খুলনা | শুক্রবার | ০২ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৮ পৌষ ১৪৩২

শামীমের বিধ্বংসী ইনিংসের পরও সিলেটের কাছে হারল ঢাকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৫:১০ পি.এম | ০১ জানুয়ারী ২০২৬


দারুণ এক জয় দিয়ে বিপিএল শুরু করা ঢাকা ক্যাপিটালস দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেল। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ভালো শুরুর আভাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে শক্তিশালী দলটিকে। সিলেটের জয়ের নায়ক আজমতউল্লাহ ওমরজাই। যিনি ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই রেখে গেছেন স্পষ্ট ছাপ। ঢাকার হয়ে ব্যাট হাতে লড়াই চালান শামীম হোসেন পাটোয়ারি।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে তাসকিন আহমেদ ও জুবাইদ আকবরিকে দলে নেয় ঢাকা। অন্যদিকে সিলেট সুযোগ দেয় আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি সিলেটের। রনি তালুকদার ৭ বলে ১১ রান করে দলীয় ১৫ রানে ফিরে যান। ওয়ান ডাউনে নামা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যর্থ হন। ৭ বলে ৬ রান করে আউট হলে ২২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সিলেট। সেই চাপ সামাল দেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইম আইয়ুব।

ইমন আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুললেও সাইম ছিলেন তুলনামূলক ধীরস্থির। পাকিস্তানি ওপেনার সাইম আইয়ুব ৩৪ বলে করেন ২৯ রান। ইমন অল্পের জন্য আবারও ফিফটি মিস করেন। ৩২ বলে ৪৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে, যেখানে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা।

আফিফ হোসেন ধ্রুব ১৩ রান করে ফিরে গেলে আবারও চাপ বাড়ে সিলেটের ওপর। তবে শেষদিকে দৃশ্যপট পাল্টে দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ইংলিশ তরুণ ইথান ব্রুকসকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের গতি বাড়ান তিনি। ১৫ রানে জীবন পাওয়া ওমরজাই একাধিকবার বেঁচে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঢাকার বোলারদের ওপর চড়াও হন। বিশেষ করে সালমান মির্জার বলে একাধিক ক্যাচ মিস সিলেটের জন্য স্বস্তি হয়ে আসে।

ইনিংসের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে মাত্র ২৪ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন ওমরজাই। যা চলতি আসরের দ্রুততম ফিফটি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১৭৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় সিলেট। দীর্ঘদিন পর বিপিএলে ফেরা তাসকিন আহমেদ এই ম্যাচে ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করেন।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস। উসমান খান ১৫ বলে ২১ রান করলেও সাইফউদ্দিন, আকবরি, মিঠুন ও নাসির হোসেনের ব্যর্থতায় দ্রুতই ম্যাচ ঢাকার হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।

ষষ্ঠ উইকেটে শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাব্বির রহমান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। সাব্বির ১৯ বলে ২৩ রান করেন, একটি চার ও দুটি ছক্কায়। শামীম শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে ঢাকা। শামীমের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ বলে অপরাজিত ৮১ রান।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭ রান। শুরুতে চমক দেখানো আমির সেই ওভারে ২০ রান দিলেও ফল বদলানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস, আর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় সিলেট টাইটান্স।