খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০১ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৮ পৌষ ১৪৩২

ভালবাসায় সিক্ত ইউএনও ও ইঞ্জিনিয়ার

পুরাতন ভবন নতুনরূপে পেয়ে উচ্ছাসিত শিশু শিক্ষার্থীরা

এস এস সাগর, চিতলমারী |
০৫:৫৫ পি.এম | ০১ জানুয়ারী ২০২৬


বছরের প্রথমদিনে পুরাতন ভবন নতুনরূপে পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা খুব উচ্ছাসিত। তাদের আর ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হবে না। বয়সের ভারে বিধ্বস্ত দুইকক্ষের ভবনটি নতুনরূপে সেজেছে। নতুনরূপে সাজানোতে অবদান রাখেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন। বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই জরাজীর্ণ ভবনটি আবারও পাঠদানের উপযোগী করে তোলায় তাঁরা দুজন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (০১ জানায়ারী) সাকাল ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকৌশলীকে সংস্কারকৃত ভবনের সামনে পেয়ে শিশুরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২৪ নং বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জাতীয়করণ হয় ১৯৮৪ সালে। প্রতিষ্ঠালগ্নে দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনের ছাউনির এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে এ ভবনের একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও একটি কক্ষ বিদ্যালয়ের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় দেয়ালে ফাটল ছিল। পলেস্তারা খসে পড়ছিল। টিনের ছাউনি ছিঁড়ে ঝুলে ছিল। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপ‚র্ণ এ ভবনে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হতো। কখনো বা যায়গার অভাবে বারান্দায় ক্লাস নিতে হতো। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। বিষয়টি গতবছরের ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক সময়ের খবরে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদটি উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সাথে আলোচনা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তাঁরা সরকারি সল্প বাজেটে নিজেরা তদারকি করে বিদ্যালয় ভবনটি মেরামত করান। বৃহস্পতিবার সকালে সংস্কারকৃত ভবনটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।  

বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অনিক শেখ ও নুসরাত জাহান জানায়, ওই কক্ষে ক্লাস করতে তাদের ভয় লাগত। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে বইখাতা ভিজে যেত। এখন আর তাদের কোন অসুবিধা হবে না। তারা সবাই ইউএনও ও ইঞ্জিনিয়ার স্যারের উপর খুশি।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মহসীন কাজী জানান, একদিকে শ্রেণী কক্ষের স্বল্পতার জন্য শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হতো। যার জন্য পাঠদান মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হতো। এখন আর কোন সমস্যা হবে না।  

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক কবিতা রাণী মন্ডল বলেন, ‘আমার স্কুলে ১১৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ইউএনও ও ইঞ্জিনিয়ার স্যার যে ভূমিকা রেখেছেন তা প্রসংশার দাবী রাখে।’

চিতলমারী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন জানান, পত্রিকার রিপোর্টটি পড়ে শিশুদের কথা ভেবে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে বলি। স্যার বিষটি গুরুত্বে সাথে দেখে ছিলেন বলে সল্প বাজেটে কাজটি দ্রæত সম্পন্ন হয়েছে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘পত্রিকার খবরটি দেখে সরেজমিন পরিদর্শনে যাই। আসলে ভবনটি মেরামত খুব প্রয়োজন ছিল। তাই করেছি। এটা সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দায়িত্ব।’