খুলনা | শনিবার | ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৯ পৌষ ১৪৩২

শ্যামনগরে প্রাইভেট ক্লিনিকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি নিয়ে হাতাহাতি, নারীসহ আহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:২৪ এ.এম | ০৩ জানুয়ারী ২০২৬


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক  প্রসূতি মাকে সেবা না দিয়ে পাশের একটি  প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর গামের এক  প্রসূতিকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।
রোগীর স্বজনদের ভাষ্যমতে,  প্রসবজনিত ব্যথা শুরু হলে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে শংকরকাটি এলাকায় পৌঁছে ইজিবাইকেই সন্তান  প্রাসব করেন এক  প্রাসূতি মা। তবে শিশুর জন্ম হলেও  প্রাসূতির ফুল (প¬াসেন্টা) না পড়ায় দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
স্বজনদের অভিযোগ ওই সময় জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। এ সময় নিজেকে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত পরিচয় দিয়ে সেলিম হোসেন নামের এক যুবক সেখানে চিকিৎসক নেই উলে­¬খ করে রোগীকে পার্শ্ববর্তী আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে রোগীকে দ্রুত আনিকা  প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানে ডাঃ আনিসুর রহমানসহ ক্লিনিকের দায়িত্বরত সদস্যরা তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ক্লিনিকের কয়েকজন নার্স একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। এ সময় চিকিৎসা বাবদ খরচ জানতে চাইলে  প্রথমে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়। এতে স্বজনরা অপারগতা  প্রকাশ করলে কমিয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
রোগীর পরিবারের সদস্যরা জানায় এতো অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় তারা রোগীকে ক্লিনিক থেকে নিয়ে যেতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে রোগীর স্বামী কামাল উদ্দিন (৩৬) ও তার বড় ভাবি জাকিয়া সুলতানা (৩৮) গুরুতর আহত হন। এছাড়া ফাতিমা খাতুন ও শাহানারা খাতুনকেও মারধর করা হয়। আহতরা বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
আহত জাকিয়া সুলতানা বলেন আমরা গরীব মানুষ। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাব ভেবেই রোগীকে সেখানে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বাধ্য করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় চিকিৎসা তো পাইনি, উল্টো মারধরের শিকার হয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকার কথা ছিল ডাঃ নাজমুল হুদার। হাসপাতালের রেকর্ডে তার দায়িত্ব থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান নিজেদের মধ্যে দায়িত্বের আন্তঃপরিবর্তনের মাধ্যমে ওই সময়ের দায়িত্ব ডাঃ আনিসুর রহমানকে দেওয়া হয়েছিল।
তবে হাসপাতালের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি সংশ্লি¬ষ্ট সময়ে ডাঃ আনিসুর রহমান জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন না করে তার পরিচালিত আনিকা ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে-ক্সের জরুরি বিভাগ ছিল ফাঁকা।
এদিকে এ ঘটনায় রোগীর স্বামীর বড় ভাই আলাউদ্দিন সানা শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উলে­¬খ করা হয়, চিকিৎসা বাবদ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং ডেলিভারি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্লিনিকের ভেতরে আটকে রেখে মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন রোগীর স্বজনরাই তার ওপরে হামলা করেছে। অপর দিকে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাঃ নাজমুল হুদার পরিবর্তে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে ডাঃ আনিসুর রহমান বলেন, হাসপাতালের রেকর্ড দেখেন, আমি সে সময় দায়িত্বে ছিলাম না।
অভিযোগের বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি হাসপাতালে আসা জরুরি রোগীদের  প্রাাইভেট ক্লিনিকে পাঠানোর অভিযোগ নতুন নয়। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার  প্রাতি আস্থা ক্ষুণœ হচ্ছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।