খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৪ পৌষ ১৪৩২

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রদান

ডুমুরিয়ার আন্দুলিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠ দখল করে সোনামুখ স্মার্ট একাডেমি নির্মাণের অভিযোগ

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি |
১১:৪৮ পি.এম | ০৪ জানুয়ারী ২০২৬


ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের আন্দুলিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে সোনামুখ স্মার্ট একাডেমি নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করতে যাচ্ছেন এলাকার প্রভাবশালী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল আকুঞ্জি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তাদের মতে বাপ দাদার ভিটেমাটি দান করে প্রতিষ্ঠিত আন্দুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী বলের মাঠটি যে কোন মূল্যে রক্ষা করা হবে। 
এলাকাবাসী জানায় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে আন্দুলিয়া স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ক্লাবের মাঠের জন্য জমি দান করেন। অত্র এলাকার কিশোর যুবক ও প্রবীণরা মিলে ক্লাবটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। এক সময় মাঠটি আন্দুলিয়ার বলের মাঠ নামেই পরিচিত লাভ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ স¤প্রতি আন্দুলিয়া বলের মাঠ সংলগ্ন জমিতে সোনামুখ স্মার্ট একাডেমি নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করতে যাচ্ছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল আকুঞ্জি। এ লক্ষে ইতোমধ্যে তিনি মাঠের জমি জোরপূর্বক দখল করে ভবন নির্মাণ অব্যহত রেখেছেন। এলাকাবাসী জানান আন্দুলিয়া স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার বহু আগে ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ৬২নং আন্দুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। পাশাপাশি রয়েছে আন্দুলিয়া কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। যেটি স্থাপিত হয় ১৯৭৬ সালে। সুদীর্ঘ সময় ধরে স্বনামধন্য এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার পরেও সোনামুখী স্মার্ট একাডেমি কি উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে এ বিষয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা জানান উক্ত প্রাইমারি স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বিগত দিনে আন্দুলিয়ার অনেকেই সুনাগরিক হয়ে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। যাদের মধ্যে উলে­খযোগ্য বি এম আব্দুল হান্নান, মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা,  সি এ আব্দুল মতিন, পরিচালক এ মতিন কং ঢাকা, মুস্তাক আকুঞ্জি, সহকারী পরিচালক বাংলাদেশ শিল্প কলা একাডেমি প্রমুখ।
সাধারণ জনগণ বলছে কামরুল আকুঞ্জি সোনামুখ স্মার্ট একাডেমির আড়ালে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আন্দুলিয়া ফুটবল মাঠ দখলে নিতে চায়। এলাকার সাধারণ জনগণ মাঠের জায়গা উদ্ধারসহ নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কিন্ডার গার্টেন স্কুল নির্মাণ বন্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খুলনা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। 
এসকল বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল আকুঞ্জির সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে মৌখিকভাবে সাংবাদিকদেরকে তিনি জানিয়েছেন আমি চাকরিরত সময় থেকে চলমান সময়ে মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমার নিজ এলাকাতে ভালো কিছু করার ইচ্ছা থাকা সত্বেও বিগত দিনে করার সুযোগ হয়নি। আমি এলাকার জনগোষ্ঠীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সোনামুখি স্মার্ট একাডেমি তৈরি করছি। এটি একটি সেবামূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে শিশুরা শিক্ষাগ্রহণ করবে জ্ঞানের সন্ধানে, ফিরে যাবে দেশের সেবায়। আমার এই সৎ মানসিকতার বাধা সৃষ্টি করতে একদল সমাজ বিরোধী মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে। তিনি দাবি করেন সোনামুখী স্মার্ট একাডেমির বিল্ডিংটি আমার কেনা জায়গার ওপর করেছি। আন্দুলিয়ার বলের মাঠের মধ্যে আমার ভবনের কোন অংশ যায়নি।