খুলনা | বুধবার | ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৪ পৌষ ১৪৩২

‘ভোক্তারা সরকারি মূল্যে এলপি গ্যাস কিনতে পারবেন, এ নিশ্চয়তা দিতে পারছি না’

৫৩ টাকা বেড়ে এলপি গ্যাসের দাম ১৩০৬

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৮ এ.এম | ০৫ জানুয়ারী ২০২৬


সরকার নির্ধারিত মূল্যেই ভোক্তারা এলপি গ্যাস কিনতে পারবে, এ নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারছি না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। রোববার এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় কমিশনের সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) শাহিদ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যে দামটা নির্ধারণ করে দিচ্ছি, ভোক্তা একদম সেই দামেই যে পণ্যটা কিনতে পারবে, সে নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারছি না। যে কোম্পানিগুলো এলপিজি ইমপোর্ট করে থাকে, তাদের যাবতীয় খরচ হিসাব করেই আমরা দামটা নির্ধারণ করে দিই। এ্যাসোসিয়েশন আমাদের বলছে, নির্ধারিত দামেই তারা পণ্যটা সরবরাহ করছে। এছাড়া আমরা ভোক্তা অধিকারেও কথা বলেছি, যাতে তারা উচ্চমূল্য প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে। আর উচ্চমূল্যের বিষয়ে যদি কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
জালাল আহমেদ বলেন, পণ্যবাহী জাহাজের সমস্যাটা মূলতঃ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে হচ্ছে। আমি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিদের বলেছি, তারা যেন সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিটা বাড়ায়। কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাহাজের ঘাটতি আছে। এছাড়া এলসি ইস্যু নিয়েও সমস্যাটা হচ্ছে যে, কোম্পানিগুলো এলসি খুলতে পারছে, কিন্তু পণ্য আনতে পারছে না। এরপরেও যদি কেউ এলসি খোলা নিয়ে জটিলতায় পড়ে, সেক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
১২ কেজির এলপিজির নতুন দর ১৩০৬ টাকা : ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বাজারে অরাজকতার মধ্যেই চলতি মাসের এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা করা হলো। ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৫৭.৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৯.৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
যদিও বিইআরসি ঘোষিত দামে এলপিজি পাওয়া নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। এর আগে গত ২ ডিসেম্বর এলপিজির দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা করা হয়। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দাম ১ টাকা ৭৪ পয়সা বাড়িয়ে ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
তবে বিইআরসি ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজির দর ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করলেও ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে বাজারে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।
কয়েক মাস দাম কমার পরে উর্ধ্বমুখী রয়েছে এলপিজির বাজার। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এলপি গ্যাসের দাম কমেছে। নভেম্বর ২৬ টাকা কমিয়ে ১২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা অক্টোবরে ১২৪১ টাকা ও সেপ্টেম্বরে ছিল ১২৭০ টাকা।
সাধারণত শীতকালে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোতে এর চাহিদা বেড়ে গেলে দামও উর্ধ্বমুখী হয়। আমদানি নির্ভর এলপিজিতে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে প্রথম দর ঘোষণা হয়। ওই আদেশে বলা হয় সৌদির দর উঠা-নামা করলে ভিত্তিমূল্য উঠানামা করবে। অন্যান্য কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে। ঘোষণার পর থেকে প্রতিমাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি। তবে অভিযোগ রয়েছে কখনই বিইআরসি নির্ধারিত দরে বাজারে এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না।
স¤প্রতি এক সেমিনারে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হওয়া উচিত ১০০০ টাকা। ১২০০ টাকার সিলিন্ডার ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। দায়িত্বহীন ব্যবসা হতে পারে না, ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নিতে হবে। এলপিজির দাম কমানোটা চ্যালেঞ্জ, এ জন্য ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নিতে হবে, বেশি মুনাফা করে টাকা পাচারের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
এর আগে গত ২ ডিসেম্বর এলপিজির দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এদিকে ধারাবাহিকভাবে এলপিজির দাম বাড়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।