খুলনা | রবিবার | ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৮ পৌষ ১৪৩২

পাকিস্তান-সৌদি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ‘যুক্ত হতে চাইছে তুরস্ক’

খবর প্রতিবেদন |
০২:৪৭ পি.এম | ১০ জানুয়ারী ২০২৬


পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে থাকা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্কও অন্তর্ভুক্ত হতে চাইছে বলে খবর বেরিয়েছে।

তারা এ চুক্তিতে যুক্ত হলে নতুন যে ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোট হবে তা মধ্যপ্রাচ্য এমনকী এর বাইরেও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, শুক্রবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদেন এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডন।

তুরস্কের আগ্রহের বিষয়ে অবগত অনামা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ বলছে, এ সংক্রান্ত আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে এবং ‘চুক্তি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি’।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দুই দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তির ফলে দুই দেশের কারও ওপর আক্রমণ, দুই দেশের ওপর আক্রমণ বলেই গণ্য হবে।

“এই সম্প্রসারিত জোটের বিষয়টি অর্থ বহন করছে, কেননা দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এমনকী আফ্রিকাতেও তুরস্কের স্বার্থ ক্রমশ সৌদি আরব ও পাকিস্তানের স্বার্থের সঙ্গে মিলছে।

“যখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা এবং নেটোর প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এ ধরনের চুক্তিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উপায় হিসেবেও দেখছে তুরস্ক,” বলেছে ব্লুমবার্গ।

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক তিন দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে।

এ জোটের মাধ্যমে রিয়াদের অর্থনৈতিক জোর, ইসলামাবাদের পারমাণবিক সক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও লোকবলের সঙ্গে তুরস্ক তার সামরিক অভিজ্ঞতা ও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা খাতকে জুড়ে দিতে চাইছে, বলেছেন আঙ্কারাভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক তেপাভের কৌশলবিদ নিহাত আলি ওজকান।

“যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজের স্বার্থ এবং এই অঞ্চলে ইসরায়েলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে, তখন পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব দেশগুলোকে বন্ধু ও শত্রু চিহ্নিতে নতুন উপায় খুঁজে বের করতে বাধ্য করছে,” ওজকান এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ত্রিপক্ষীয় জোটের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন নিয়ে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিন দেশের এমন প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, আফগানিস্তানের জন্যও নতুন মাথাব্যথার কারণ হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

এসব অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্যের এমন পরিবর্তন অস্ত্র প্রতিযোগিতাও নতুন করে উসকে দিতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।