খুলনা | সোমবার | ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৯ পৌষ ১৪৩২

বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে খুন হন মুছাব্বির, পাঠানো হয় ১৫ লাখ টাকা

খবর প্রতিবেদন |
০১:০৩ এ.এম | ১২ জানুয়ারী ২০২৬


কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিদেশে থাকা এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মুছাব্বির খুন হন। এ জন্য বিদেশ থেকে খুনিদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে থাকা এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বিরের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দ্বন্দ্ব হয়। হত্যার আগে কারওয়ান বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বও হয়। এ ঘটনায় মুছাব্বির একটি মামলাও করেছেন। আরও বেশ কিছু রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল। এরপরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যার জন্য বিদেশ থেকে ১৫ লাখ টাকাও পাঠানো হয়।

এদিকে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শুটার জিন্নাত (২৪), হত্যার মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল হোসেন, তাঁর চাচা আব্দুল কাদির ও রিয়াজ (৩২)। তাঁদের দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে জব্দ হয়েছে একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল, যেটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ডিবি পুলিশ বলছে।

আজ দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্নভাবে তদন্ত করে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করেন তাঁরা। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য কী ও এর সঙ্গে অপরাধজগতের কেউ জড়িত আছে কি না—জানতে চাইলে ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘ভিকটিম একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন। আমরা প্রাথমিকভাবে আসামিদের শনাক্ত করেছি এবং গ্রেপ্তার করেছি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার করা যায়নি। হত্যার উদ্দেশ্য উদ্‌ঘাটনের জন্য আমরা তদন্ত করব।’

আসামিদের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় আছে কি না—জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। হত্যাকাণ্ডে বিল্লালের আরও এক আপন ভাই জড়িত। রহিম নামের সেই ব্যক্তি পলাতক। ভিকটিম রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, রাজনৈতিক কারণ ছিল কি না, তা আমরা তদন্ত করব। আসামিদের ব্যবসা আছে কারওয়ান বাজারে, তবে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল।’

এ হত্যাকাণ্ডের জন্য বিদেশ থেকে ১৫ লাখ টাকা পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে—এ প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকগুলো বিষয় আছে, যেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। এর মধ্যে এই বিষয়ও রয়েছে। কিছুদিন আগে উনি একটা মানববন্ধন করেছিলেন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। সেখানে মারামারি হয়েছিল, সে ঘটনায় মামলা হয়েছে। তা ছাড়া উনি একজন উদীয়মান জনপ্রিয় নেতা। এই বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখতেছি।’

মুছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন একসময়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে গেছেন।

গত বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে গুলি করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।

ঘটনার পরদিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। বেশ কিছুদিন ধরে মুছাব্বির ‘জীবননাশের হুমকি পাচ্ছিলেন’ বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সুরাইয়া।
সূত্র : আজকের পত্রিকা