খুলনা | সোমবার | ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | ২৯ পৌষ ১৪৩২

‘হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি এমন সম্পদের মালিককে শাসক হিসেবে চাই না’

সঠিক হলফনামা যাচাই হলে শেখ হাসিনার প্রার্থিতা বাতিল হতো : দুদক চেয়ারম্যান

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৫ এ.এম | ১২ জানুয়ারী ২০২৬


শেখ হাসিনার হলফনামা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই হলে তার প্রার্থিতা বাতিল হতো বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। রোববার ঢাকায় রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের (র‌্যাক) ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ নির্বাচিত না হলে দেশ এগিয়ে যাবে।’ এছাড়া হলফনামা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দুদককে জানানোর অনুরোধ জানান দুদক চেয়ারম্যান।
বিগত নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেখ হাসিনা সব সম্পদ সঠিকভাবে প্রদর্শন করেনি। তার আয়বহির্ভূত সম্পত্তি ছিল। দুদক তখন সক্রিয় থাকলে শেখ হাসিনার মনোনয়ন বাতিল হতো। গণতন্ত্র উত্তরণের বছর এটি, আশা করি ভালো শাসকরা শাসন করবেন।’ হলফনামা যাচাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী ‘‘সূ²ভাবে অনুসন্ধান করা কঠিন।’’
হলফনামা নিয়ে অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি কোনো হলফনামায় কোনো ব্যক্তির সম্পদের বিষয়ে সন্দিহান হন, অনুগ্রহ করে সেই তথ্য সবার আগে আমাদের হাতে দিন। আপনারাও তো অনুসন্ধানকারী। অনুসন্ধান করে আমাদের অনুসন্ধানকে সহায়তা করুন।’
আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমরা চাই না, হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি, এমন সম্পদের মালিক কেউ আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসুক।’
সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে ‘ন্যায়নিষ্ঠ ও সুবিচারভিত্তিক’ রাষ্ট্র গঠন জরুরি বলে মন্তব্য করেন দুদক চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ‘এরকম একটি রাষ্ট্র গঠন করতে যা যা প্রয়োজন, আমাদের প্রত্যাশা এই বছর আমরা সেগুলো পাব। তবে সংকট কেটে গেলেও দুর্নীতি বাংলাদেশের একটি বড় সংকট হিসেবেই থাকবে। এই দুর্নীতি যাতে নিরসন হয়, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে নজর রাখতে হবে।’
ভবিষ্যতের শাসকরা যেন ‘ন্যায়নিষ্ঠ ও সৎ’ হন, সেই প্রত্যাশা রেখে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমরা যদি ন্যায়বান ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে পারি, আমরা যদি দুর্নীতিবিহীন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে নিয়ে আসতে পারি, যদি তাদের নেতৃত্বে শাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাহলে আমাদের বিশ্বাস, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।’
‘সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে¡ও’ দুর্নীতি দমন কমিশন তার ‘নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পথেই’ এগোচ্ছে বলে দাবি করেন সংস্থার চেয়ারম্যান।
নির্বাচনী হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি এমন সম্পদের মালিকদের আগামী দিনে শাসক হিসেবে দেখতে চাই না বলে মন্তব্য করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান। 
২০০৮ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনাদের মনে করিয়ে দিই ২০০৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলফনামায় সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছিলেন এবং বাস্তবে আমরা যে সম্পত্তি পেয়েছি, তার মধ্যে ছিল বিস্তর ব্যবধান। সেই সময় যদি দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করত, তাহলে তখনই তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু সেটি হয়নি।’
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য যাচাইয়ের জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে ড. আবদুল মোমেন বলেন, ‘স্বল্প সময়ে আমাদের পক্ষে অত সূ²ভাবে কাজ করা কঠিন। আপনারা যদি কোনো ব্যক্তির সম্পদের বিষয়ে সন্দিহান হন, তবে অনুগ্রহ করে সেই তথ্য সবার আগে আমাদের দিন। আপনারা নিজেরাও তো অনুসন্ধানকারী। অনুসন্ধান করে আমাদের সহায়তা করুন। আমরা চাইব না হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি, এমন সম্পদের মালিক আগামী দিনে শাসক হিসেবে আসুক।’
রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সবার জন্য সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও সুবিচার সম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনের জন্য দুর্নীতি নিরসন জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আগামীতে যারা শাসক হবেন তারা যেন অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠ হন।
র‌্যাকের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) হাফিজ আহ্সান ফরিদ এবং সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম উপস্থিত ছিলেন।