খুলনা | শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | ৩ মাঘ ১৪৩২

পুরনো ঘুনে ধরা নয়, তরুণ ও জনআকাঙ্ক্ষা রাজনীতির বাংলাদেশ দেখার প্রত্যয়

ইসলামী আন্দোলন ছাড়াই আসন সমঝোতায় জোটের বাকি ১০ দল, ২৫৩ আসনে জামায়াত ১৭৯ ও এনসিপি ৩০

খবর প্রতিবেদন |
০৯:৪০ পি.এম | ১৫ জানুয়ারী ২০২৬


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির  সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জোটের আসন ভাগাভাগির বিষয়টি তুলে ধরেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড়াই আসন সমঝোতায় এল জোটের বাকি ১০ দল।
সমঝোতার ২৫৩ আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭৯, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি ) ৭, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২ ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২। তবে জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি। চূড়ান্ত হয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসন সমঝোতার বিষয়টিও।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের এই জোটের আসন ভাগাভাগির বিষয় তুলে ধরার সিদ্ধান্ত আসে। তবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য পৌনে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন জোটের নেতারা। এর আগে দুপুরে ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই জরুরি বৈঠক করেন বাকি ১০ দলের নেতারা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের নেতারা ওই বৈঠকে যাননি।
জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাকি ১০ দলের নেতাদের নিয়ে ওই বৈঠক হয়। সেখানে ২৫০ আসনের সমঝোতায় কোন দল কত আসন পাবে, সে বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়। বাকি ৫০ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার পক্ষে মত দেওয়া হয়।
জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের বলেন, “আমরা সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের আসন বন্টনের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। টুকটাক দুই একটা জায়গায় কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে, সেগুলো প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই আমরা চূড়ান্ত করতে পারবো।”
বাকি ৪৭ আসন ঘোষণা নিয়ে তিনি বলেন, “বাকি আসনগুলোই আমাদের আরো যারা আছে, আমরা আশা করি ওনারা এখানে ঐক্যমতের ভিত্তিতে ওনারাও (ইসলামী আন্দোলন) আমাদের সাথে থাকবেন। তখন আমরা ওনাদের আসনগুলো যেগুলো বাকি আছে সেসব বিষয়ে আপনাদেরকে অবহিত করব।”
এবারের নির্বাচন অতীতের মতো নয় মন্তব্য করে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের বলেন, “অতীতের নির্বাচনগুলো ছিল শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের জন্য একদল, কোন দল বেশি ভোট পাবে সেভাবে যাবে। কিন্তু আমাদের এই নির্বাচনটি হচ্ছে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার একটি নির্বাচন। আমরা জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ এবং এই নির্বাচন হচ্ছে একটি সেই সংস্কার এবং পরিবর্তন অর্জনের জন্য নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন।
“সুতরাং এই নতুন বাংলাদেশ গড়া নির্বাচনে আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধতাকে অত্যন্ত ‘সিরিয়াসলি’ এটাকে বিজয় করার জন্য আমাদের উপর একটি নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য এটা আমি মনে করি।”
আগামী ১২ ফেব্র“য়ারি ভোটগ্রহণের দিন রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন চলছে প্রার্থিতা ফেরতের আপিল নিষ্পত্তির কাজ। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে সংস্কার বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটও হবে।
যা বললেন জামায়াত আমির : পুরনো ঘুনে ধরা নয়, তরুণ ও জনআকাক্সক্ষা রাজনীতির বাংলাদেশ দেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অতীতের মতো কোনো নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং আমরা এবার দেখতে চাই না। এবার এটা একবারে বরদাস্ত করবো না।
তিনি বলেন, “যেই রাজনীতি ফ্যাসিবাদ হয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসে ওই রাজনীতি আমরা একেবারেই চাই না। যে রাজনীতি নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষার চাইতে মানুষকে খুনের রাজনীতি করে, আমরা সেই রাজনীতিতে আর ফিরে যেতে চাই না।”
তিনি বলেন, “আমরা কার্যত জুলাই বিপ্লবের যারা স্বীকৃতি দেন, ধারণ করেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন সেই লোকগুলোই আমরা একত্রিত হয়েছি।”
‘সিইসিহ নির্বাচন কশিনারদের জেলে যেতে হবে’ : বর্তমানে দেশ নির্বাচনের পরিবেশ নেই দাবি করে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ বলেছেন, “বর্তমানে যে বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনের পরিবেশ নাই এবং সকলের জন্য জন্য সমান সুযোগ নাই। এটা (নির্বাচনি পরিবেশ) যদি সৃষ্টি করা না হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা যেভাবে জেলে গেছে আপনাদেরকেও আগামীতে জেলে যেতে হবে। এটার থেকে রক্ষা পাবেন না। “অন্যের পেছনে যাবেন না। কারো তাবেদারি করবেন না। তাবেদারি করবেন বাংলাদেশের জনগণের।”
‘ঐতিহাসিক যাত্রা’ : ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “এটা আমাদের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, ঐতিহাসিক যাত্রা। এটা যেমন একই সাথে নির্বাচনী সমঝোতা, একই সাথে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।
“কারণ গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা যে আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাচ্ছি আসন্ন নির্বাচনে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে উতরাতে হবে। ফলে আমাদের সেই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সিক্ষত বাংলাদেশ, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ এবং আমাদের ১৯৪৭ সালের যে আজাদীর লড়াই, সকল ঐতিহাসিক লড়াইকে ধারণ করে আমরা এই আসন্ন নির্বাচন এবং গণভোটে একত্রে কাজ করব, ঐক্যবদ্ধ কাজ করব।”