খুলনা | শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | ৩ মাঘ ১৪৩২

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি : ‘মোটিভ’ নির্ধারণ করবে মানবাধিকার কমিশন

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫২ এ.এম | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬


ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যাবলি থেকে গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য আগামী সপ্তাহে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ আইন করছে সরকার। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই অধ্যাদেশটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আমরা আগেই ঘোষণা করেছিলাম এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার ছিল। আজ (বৃহস্পতিবার) ক্যাবিনেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ অনুমোদিত হয়েছে। আশা করি, আগামী পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত যে কার্যাবলি ছিল (১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট) সে সব কার্যাবলির ফৌজদারি দায়দায়িত্ব থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করার বিষয়টি গণঅভ্যুত্থানকারীদের কাছে সরকারের কমিটমেন্ট ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রটেকশন নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজ আমরা বাংলাদেশে মুক্ত বাতাস পাচ্ছি, গণতন্ত্র পাচ্ছি, হিউম্যান রাইটস পাচ্ছি- এর সবই তাদের আত্মত্যাগের ফসল।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের সরকার আসবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখার চিন্তা থেকে মূলত দায় মুক্তি আইন প্রণীত হচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যাবলি থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে আমরা বুঝিয়েছি-ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনস ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ড। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট কোনো ফৌজদারি দায়-দায়িত্ব থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকে, তবে সরকার সেই মামলাগুলো প্রত্যাহার করার পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া, জুলাই-আগস্ট মাসে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে করা কর্মকাণ্ডের জন্য এখন থেকে আর নতুন কোনো মামলা করা যাবে না। ইতোমধ্যে যেসব মামলা করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই এবং আগস্ট মাসে কেউ যদি রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে সেই ফৌজদারি দায়-দায়িত্ব থেকে সে রেহাই পাবে না। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রতিশোধস্পৃহা থেকে লোভের বশবর্তী হয়ে কেউ যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আইন করা হয়নি। আইনটি করা হয়েছে কেবল ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য সংগঠিত কার্যাবলি এবং সেই প্রক্রিয়ায় যারা সম্মিলিতভাবে (কালেক্টিভলি) যুক্ত ছিলেন, তাঁদের দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য।
তিনি বলেন, কোন হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রক্রিয়ায় হয়েছে আর কোনটি ব্যক্তিগত ও সংকীর্ণ স্বার্থে করা হয়েছে তা নির্ধারণের দায়িত্ব আমরা দিয়েছি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। কোনো ভিকটিমের পরিবার যদি মনে করে যে তাদের স্বজন ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং এর সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের কোনো সম্পর্ক ছিল না, তবে তারা মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। মানবাধিকার কমিশন যদি দেখে যে এটি ব্যক্তিগত স্বার্থে করা হয়েছে, তবে তারা তদন্ত করবে এবং তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করবে। আদালতে সেই রিপোর্ট পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের মতোই গণ্য হবে।
জুলাই এবং আগস্টে সংগঠিত কার্যাবলি থেকে দায় মুক্তির প্রক্রিয়া কী হবে : এ প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যাবলীর কারণে যদি কোনো ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকে তাহলে সেই মামলাগুলো প্রত্যাহার করার পদক্ষেপ নেবে সরকার। নতুন করে কোনো মামলা করা যাবে না।
তিনি বলেন, জুলাই এবং আগস্ট মাসে কেউ যদি রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তি এবং সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটায় সেটার ফৌজদারি দায় দায়িত্ব থেকে সে রেহাই পাবে না। লোভের বশবর্তী হয়ে বা প্রতিশোধ পরায়ণতা থেকে ব্যক্তিগত এবং সংকীর্ণ স্বার্থে কেউ যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায় তাহলে তাকে দায় মুক্তি দেওয়া হবে না।
কোনো ভিকটিমের পরিবার যদি মনে করে তার বাবা বা তার ভাই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনের কারণে নয়, ব্যক্তিগত সংকীর্ণ স্বার্থের কারণে হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়েছেন তাহলে তারা মানবাধিকার কমিশনের কাছে আবেদন করতে পারবেন। 
আসিফ নজরুল জানান, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হলেও ১৯৭২ সালের ২৯ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত দায় মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে হত্যাকাণ্ডের প্রকার : আসিফ নজরুল জানান, হত্যাকাণ্ডের কোনটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের কারণে আর কোনটি ব্যক্তি বা সংকীর্ণ স্বার্থে করা হয়েছে সেটি নির্ধারণ করবে মানবাধিকার কমিশন।
তিনি বলেন, কোনো ভিক্টিমের পরিবার যদি মনে করে তার বাবা বা তার ভাই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনের কারণে নয়, ব্যক্তিগত সংকীর্ণ স্বার্থের কারণে হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়েছেন তাহলে তারা মানবাধিকার কমিশনের কাছে আবেদন করতে পারবেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে অন্য কারো ব্যক্তিগত সংকীর্ণ স্বার্থ থেকে এটার সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের সম্পর্ক ছিল না। তাহলে তিনি মানবাধিকার কমিশনে যাবেন।
মানবাধিকার কমিশন যদি দেখে সত্যি এটা ব্যক্তিগত সংকীর্ণ স্বার্থে করা হয়েছে তাহলে মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করবেন আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দেবেন।