খুলনা | শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | ৩ মাঘ ১৪৩২

খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জনিং’ করা হয়েছিল: মেডিকেল বোর্ড প্রধানের বিস্ফোরক তথ্য

খবর প্রতিবেদন |
০৬:৪৭ পি.এম | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬


সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার ব্যক্তিগত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান প্রফেসর ডা. এফএম সিদ্দিক। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, ভুল ঔষধের প্রয়োগ বেগম জিয়ার লিভারকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, যা অনেকটা ‘স্লো পয়জনিং’ বা ধীরগতির বিষক্রিয়ার মতো কাজ করেছে।

ডা. এফএম সিদ্দিক বলেন, ম্যাডাম রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ভুগছিলেন। তৎকালীন সরকারি মেডিকেল বোর্ড তাকে নিয়মিত ‘মিথোট্রেক্সেট’ নামক ট্যাবলেট দিচ্ছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, এই ঔষধ সেবন করলে নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করতে হয়। কিন্তু ম্যাডামের লিভারের অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকলেও তাকে ন্যূনতম আল্ট্রাসনোগ্রাফিও করতে দেওয়া হয়নি।

তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন ম্যাডামকে কি স্লো পয়জন করা হয়েছে? আমার উত্তর হলো— মিথোট্রেক্সেট ঔষধটিই তার ফ্যাটি লিভারকে দ্রুত সিরোসিসে রূপান্তর করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ঔষধটি তার লিভারের জন্য ‘স্লো পয়জন’ হিসেবে কাজ করেছে।

শোকসভায় প্রফেসর সিদ্দিক আরও বলেন, বেগম জিয়া বারবার তার পছন্দের চিকিৎসক চেয়ে আবেদন করলেও আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (তৎকালীন বিএমইউ) চিকিৎসকরা আদালতে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন, সেখানে লিভারের রোগের কথা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। এটি শুধু অবহেলা নয়, বরং একটি ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ এবং হত্যার নীল নকশার অংশ কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিনি সরকারের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন:
১. তৎকালীন সরকারি মেডিকেল বোর্ডে কারা ছিলেন এবং কোন যোগ্যতায় তারা নিয়োগ পেয়েছিলেন তার তদন্ত।
২. চিকিৎসাকালীন সময়ে দায়িত্বরত ডাক্তারদের গাফিলতি খতিয়ে দেখা।
৩. কেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তার নেপথ্যের কারিগরদের চিহ্নিত করা।

প্রফেসর এফএম সিদ্দিক অবিলম্বে বিএসএমএমইউ-তে থাকা বেগম জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র আইনগতভাবে জব্দ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই ন্যায়বিচারকে অস্বীকার করা। আমরা আশা করি সরকার দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেবে।