খুলনা | রবিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ৫ মাঘ ১৪৩২

খুলনায় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সাথে নাগরিক সংলাপে উঠে এসেছে খুলনার নানামুখী সমস্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৪৩ এ.এম | ১৮ জানুয়ারী ২০২৬


‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : খুলনাবাসীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক খুলনার সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সাথে নাগরিক সংলাপে উঠে এসেছে খুলনার নানামুখী সমস্যার চিত্র। ব্যস্ততার মধ্য দিয়েও খুলনার কয়েকজন প্রার্থী নাগরিক সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। শিল্প নগরী খুলনাকে উজ্জীবিত করতে উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ, ব্রিজ নির্মাণ, বন্ধ হয়ে যাওয়া খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলসহ বিভিন্ন কলকারখানা পুনঃজ্জীবিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করছেন। বিগত দিনে নিউজপ্রিন্ট মিলসহ বিভিন্ন কল-কারখানার মালামাল লুটপাটের বিষয়ে কথা বলেছেন সংসদ সদস্য প্রার্থী। বিগত কয়েক মাসে খুলনায় অর্ধশত খুনের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন। মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে অধিকাংশ হত্যা ও খুনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করছেনে অধিকাংশ সংসদ সদস্য প্রার্থী। খুলনাকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা।  
গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমম্বয় কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমম্বয় কমিটির পক্ষ থেকে খুলনার উন্নয়নে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবির ফিরিস্তিপত্র তুলে দেওয়া হয়।  বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমম্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামানের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির উৎসবের সার্বিক পরিচালনায় সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বক্তৃতা করেন। 
খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘খুলনাকে এখন অন্ধকার সিটি বলা যায়। তার কারণ খুলনায় চারিদিকে যেমন মাদকের ছড়াছড়ি তেমনি প্রায় হচ্ছে মার্ডার। খুলনা এখন খুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিগত বছরে অর্ধশত খুন হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত দিনে খুলনায় যারা প্রথম শ্রেণির নাগরিক ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই এখন ঢাকাবাসী। তিনি বলেন, খুলনায় ন্যায়ভিত্তিক সুশাসনের প্রয়োজন, তবে একটু সময়ের দাবি মাত্র। এসব সমস্যা রোধে বিএনপি ইতোমধ্যে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খুবই শিগগিরই যেটা খুলনাবাসীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপি কখনো ক্ষমতা কুক্ষিগত করে না। বিএনপি খুলনাবাসীর সাথে থেকে কাজ করতে চায়।’
খুলনা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আমীর এজাজ খান বলেন, ‘শিল্প নগরী খুলনাকে উজ্জীবিত করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই ব্রিজ ও বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন। তিনি বলেন, দকোপের পানখালী খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন।’
খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এড. জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল বলেন, ‘খুলনাকে পরিচ্ছন্ন ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে একটু সময়ের দাবিমাত্র। এজন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যোগ্যতার মাপকাটিতে খুলনাবাসীর সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করেছেন এ সংসদ সদস্য প্রার্থী।’ 
খুলনা-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘খুলনার উন্নয়ন ও কল্যাণে খুলনাবাসীর সাথে থেকে কাজ করতে চাই। এজন্য খুলনাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি। তিনি বলেন, এক সময়ের শিল্প নগরী খালিশপুর এখন মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলসহ বিভিন্ন কল-কারখানার মালামাল লুটপাট করায় কল-কারখানাগুলো বছরের পর বছর বন্ধ হয়ে আছে। বেকার হয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষ। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা পেলে এসব সমস্যা সমাধানে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরো বলেন, খুলনায় আইনশৃঙ্খলা চরম অবনতি। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো তৎপর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেছেন তিনি। তিনি বলেন, খুলনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫৮ জন হত্যা হয়েছে। অধিকাংশ হত্যা ও খুনই হয়েছে মাদক সংক্রান্ত কারণে। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তেমন কোনা ঘটনা ঘটেনি। দৌলতপুর, খালিশপুর উন্নতমানের হাসপাতাল প্রয়োজন এমনও মন্তব্য করেছেন তিনি।’ 
খুলনা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জনার্দন দত্ত নান্নু বলেন, ‘বিগত সরকার লুটপাটের রাজনীতি করেছে। খুলনার উন্নয়নে প্রথমে গ্যাস সংযোগ প্রয়োজন। রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করতে হবে। খুলনাকে অত্যাধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
খুলনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ খান লিটন বলেন, ‘খুলনার উন্নয়নে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে খুলনার উন্নয়নে সব ধরনের কাজ করা হবে।’ 
খুলনা-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ মোঃ আসাদুল্লাহ ফকির বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, খুলনার মানুষের সেবার জন্য আমাদের রাজনীতি।’
এ সময় বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুক হক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনা’র সভাপতি রাশিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ রেহেনা আক্তার, জাতীয়তাবাদী খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নূরুল হাসান রুবা, এড.  ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক, খুলনা ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের ভাইস-চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম জহির, মাহবুবুর রহমান খোকন। 
এ সময় শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর ইমাম, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি নেতা নিজাম রহমান লালু, উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি সাংবাদিক অধ্যাপক মোঃ আবুল বাশার, মিজানুর রহমান বাবু, মামনুরা জাকির খুকুমণি, মোঃ খলিলুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মনিরুজ্জামান রহিম, মনিরুল ইসলাম মাস্টার, কোষাধ্যক্ষ শেখ গোলাম সরোয়ার, আরিফ নেওয়াজ, রকিব উদ্দিন ফরাজীসহ উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।