খুলনা | সোমবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ৬ মাঘ ১৪৩২

সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন

|
১২:০৭ এ.এম | ১৯ জানুয়ারী ২০২৬


দেশজুড়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকট আজ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স¤প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরিস্থিতির যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা পুরো দেশের সাধারণ মানুষের জীবনহানির শঙ্কাকেই সামনে এনেছে। সিরাজগঞ্জের ১৪ বছরের কিশোর শাহেদের বুকফাটা আর্তনাদ কিংবা তার মা-বাবার দিশাহারা হয়ে একের পর এক ফার্মেসিতে ছুটে চলা কেবল একটি পরিবারের অসহায়ত্বের ঘটনা নয়, এটি দেশের ভেঙে পড়া জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক রূঢ় বাস্তবতা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবন রক্ষাকারী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার (এআরভি ও আরআইজি) তীব্র সংকটে সারা দেশে হাজার হাজার মানুষের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
জলাতঙ্ক এমন এক মারণব্যাধি, যার লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে মৃত্যু প্রায় অনিবার্য। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এই মৃত্যু শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। অথচ এক বছর ধরে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আরআইজি টিকার সরবরাহ বন্ধ এবং অনেক জেলায় এআরভি টিকারও হাহাকার চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে প্রতিবছর প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ মানুষ কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়।
দিনে গড়ে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সেখানে টিকার অভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সংকটের মূলে রয়েছে চরম প্রশাসনিক উদাসীনতা ও অদূরদর্শিতা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো স্বীকার করেছে যে কৌশলগত পরিকল্পনা বা অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) না থাকার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
একটি জরুরি জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিনের সংগ্রহপ্রক্রিয়া কিভাবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় থমকে যেতে পারে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। শুধু তা-ই নয়, জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের প্রধান অস্ত্র ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন (এমডিভি) বা কুকুরের গণটিকাদান কর্মসূচিও দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা উভয় ক্ষেত্রেই এই স্থবিরতা গত দুই দশকের কষ্টার্জিত সাফল্যকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে পারে।
২০১০ সালের আগে দেশে জলাতঙ্কে বছরে দুই হাজারের বেশি মানুষ মারা যেত। সরকারের সিডিসি প্রোগ্রামের কার্যকর পদক্ষেপে সেই সংখ্যা ৫০-এ নেমে এসেছিল।এখন টিকার অভাবে যদি এই সংখ্যা আবারও বাড়তে শুরু করে, তবে এর দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এড়াতে পারবে না।
আমরা মনে করি, জনস্বাস্থ্যের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা বা অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত পুনরায় চালু করা প্রয়োজন।