খুলনা | মঙ্গলবার | ২০ জানুয়ারী ২০২৬ | ৭ মাঘ ১৪৩২

বিতর্কিত ফাইনালে মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০২:২২ পি.এম | ১৯ জানুয়ারী ২০২৬


ঘরের দর্শকদের সামনে মরক্কোর হাতেই ট্রফি ওঠার কথা ছিল। ব্রাহিম দিয়াজ করলেন ভুল। রাবাতের ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সেনেগাল মাঠ ছেড়ে উঠে যায়। প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবার মাঠে ফেরে তারা। যোগ করা সময়ের ২৪তম মিনিটে দিয়াজ পেনাল্টি কিক নেন। কিন্তু ততক্ষণে মনোযোগ হয়তো নড়ে গিয়েছিল তার। রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গারের দুর্বল পানেনকা শট লুফে নেওয়া ছিল সেনগাল কিপার এদুয়ার্দো মেন্দির জন্য খুব সহজ। তারপর অতিরিক্ত সময়ের গোলে মরক্কোর হৃদয় ভেঙে দিয়ে আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের চ্যাম্পিয়ন হলো সেনেগাল।

পাপে গুয়েইর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে মরক্কোকে হারিয়ে আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেনেগাল। ম্যাচ জয়ী গোল করা গুয়েই বলেছেন, ‘আমরা সবকিছু দিয়েছি। কোনো প্রতারণা করিনি। এটা ছিল সত্যিই কঠিন ম্যাচ। কিন্তু আমরা এখানে জিততে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। এটা সুন্দর একটি দেশ এবং তাদের সমর্থকরা অসাধারণ। সেনেগাল আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন এবং আমরা খুব খুশি।’

কঙ্গোলিস ম্যাচ রেফারি জ্য-জ্যকস এনদালা ভিএআর পরীক্ষা করে যোগ করা আট মিনিটের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি দেন। সেনেগাল ডিফেন্ডার এল হাদজি মালিক দিওফ বক্সের মধ্যে ফাউল করেন দিয়াজকে। পুরো মরক্কান দল রেফারিকে ভিডিও রিপ্লে দেখার দাবি জানান। তারপরই রেফারি ভিএআর পরীক্ষা করে স্বাগতিকদের পেনাল্টি দিলে সেনেগাল ও তাদের ভক্তরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বেশিরভাগ খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে চলে যান। সমর্থকদের একাংশ স্টেডিয়ামে চেয়ার ও অন্য বস্তু ছুড়ে মারেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তাদের ক্ষোভ আনন্দে রূপ নেয়, যখন পেনাল্টি থেকে দিয়াজ গোল করতে ব্যর্থ হন। এর আগে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ইসমাইল সারের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল করে দিয়েছিলেন রেফারি।

দিয়াজের পেনাল্টি মিসের পর যেন আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে সেনেগাল। গোল পেয়েও যায় তারা। গ্যালারিতে উপস্থিত অর্ধলক্ষাধিক ঘরের দর্শকদের নিস্তব্ধ করে দেয় অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে করা গুয়েইর গোল। মাঝমাঠ থেকে বল দখলে নিয়ে সাদিও মানে খুঁজে পান ইদ্রিসা গানা গুয়েই। তারই বাড়ানো বলে জাল কাঁপান ভিয়ারিয়ালের মিডফিল্ডার।

মরক্কো ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে নিতে পারতো। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নায়েফ আগুয়ার্দের হেড ক্রসবারে লাগে। কিন্তু দিনটা মরক্কোর ছিল না। ঘরের দর্শকদের সামনে ৫০ বছরের ট্রফি খরা ঘুচাতে পারেনি তারা। ২০২২ সালের পর আবার শিরোপা জিতল সেনেগাল, তিন বছরে তৃতীয়।

মরক্কো কোচ তার প্রতিপক্ষ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, ‘সেনেগালকে অভিনন্দন। কিন্তু আফ্রিকান ফুটবলের যে ভাবমূর্তি আমরা দেখালাম, সেটা হতাশাজনক, বিশেষ করে পেনাল্টি দেওয়ার পর যা ঘটল।’