খুলনা | মঙ্গলবার | ২০ জানুয়ারী ২০২৬ | ৬ মাঘ ১৪৩২

জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারীর বিবৃতি

খুলনায় এনসিপি পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৬:৫৫ পি.এম | ১৯ জানুয়ারী ২০২৬


খুলনায় এনসিপি খুলনা জেলা শাখার সদস্য পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন নেসার উদ্দিন সড়কের একটি বাড়িতে চাঁদা দাবি করতে গেলে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, আল নাঈম ও মিরাজ গাজী। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ এনসিপি খুলনা জেলা শাখার সদস্য বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান এক বিবৃতিতে মিরাজ তাদের সদস্য নয় বলে দাবি করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেসার উদ্দিন সড়কের বাসিন্দা শাহনাজ পারভীনের বাবা এস এম শফিকুল ইসলাম সানা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য কয়েক দিন আগে কয়রা থেকে খুলনায় আসেন। সোমবার দুপুরে তিনজন ওই বাড়িতে গিয়ে একজন নিজেকে এনসিপি নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, সেখানে আওয়ামী লীগের এক নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। এ সময় তারা শাহনাজ পারভীনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে কৌশলে শাহনাজ পারভীন সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে থানায় আনে। আটক তিনজনের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ নিজেকে এনসিপি খুলনা জেলা শাখার সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছেন। তারা সেখানে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান এক বিবৃতিতে বলেন, মিরাজ নামক এক ব্যক্তিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। মিরাজ নামক ব্যক্তি বা গ্রেফতারকৃত অন্য কেউ দলটির কোনো জেলা, মহানগর কোন পর্যায়ের সদস্য বা দায়িত্বশীল কেউ নয়। একটি অসাধু চক্র উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দলের নাম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি সব সময় কোনো ধরসের চাঁদাবাজি, জুলুম বা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আপোসহীন। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে বা পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলটি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।