খুলনা | বুধবার | ২১ জানুয়ারী ২০২৬ | ৭ মাঘ ১৪৩২

ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থানুকূল পররাষ্ট্রনীতিই কাম্য

|
১২:৫৬ এ.এম | ২০ জানুয়ারী ২০২৬


বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি ও নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। গুলশানে বিএনপি’র চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক বৈঠকে তারা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপি’র মনোভাব সম্পর্কে অবগত হন। বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব ও চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স এ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিএনপি’র চেয়ারম্যান দেশে আসার পর বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন। তারা আসছেন, কথা বলছেন এবং আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে, তার চিন্তা-ভাবনা ও উন্নয়ন কর্মসূচি কী ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চাইছেন এবং অবগত হচ্ছেন। দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বিএনপি ক্ষমতায় এলে কেমন হবে সে সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিএনপি যাদের সঙ্গেই সম্পর্ক করবে, সেটি হবে দেশের স্বার্থে। বিগত দিনে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক করা হয়েছে। বিএনপি সেটা করবে না। বিএনপি’র সঙ্গে সকল দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান-মর্যাদা ও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে। বলা বাহুল্য, যেকোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নীতি-আদর্শ, উদ্দেশ্য-কর্মসূচি এবং স্বার্থের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রেখেই পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হয়ে থাকে। বলা হয়ে থাকে, অভ্যন্তরীণ নীতির স¤প্রসারিত রূপের প্রতিফলন ঘটে বিদেশনীতিতে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, স্বৈরাচারের সাড়ে ১৫ বছরে দেশে পররাষ্ট্রনীতি বলে কিছু ছিল না। পররাষ্ট্রনীতির নামে ছিল ‘ভারতনীতি’, যা ছিল দাসসুলভ ও নতজানু। তখনকার রাষ্ট্র পরিচালকদের কারো কারো মুখে শোনা গেছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কই আমাদের জন্য যথেষ্ট। অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের প্রয়োজন নেই। তখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল দেওয়ার, নেওয়ার বা পাওয়ার কোনো ব্যাপার সেখানে ছিল না। তখন সরকার প্রধানকে পর্যন্ত বলতে শোনা গেছে, ‘আমরা ভারতেকে যা দিয়েছি, ভারত সারাজীবন তা মনে রাখবে।’ অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভারত নির্ভর হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ বস্তুত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর এ অবস্থার অবসান সূচিত হয়। অন্তর্র্বতী সরকার পররাষ্ট্রনীতি নতুন ভাবে বিন্যাস করার চেষ্টা করছে। ভারতের প্রতি নতজানুতা পরিহার করে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে। জাতীয় সম্মান ও মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। সর্বশেষ মুস্তাফিজ ইস্যুতেও সরকার সিদ্ধান্ত অভিনন্দিত হয়েছে।