খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ জানুয়ারী ২০২৬ | ৯ মাঘ ১৪৩২

হাদি হত্যা: ফয়সালের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ রুবেল ৬ দিনের রিমান্ডে

খবর প্রতিবেদন |
০৬:০৪ পি.এম | ২২ জানুয়ারী ২০২৬


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল রুবেল আহমেদকে (৩৩) ছয় দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডেরর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মো. রুকনুজ্জামান এ তথ্য দিয়েছেন।

বুধবার রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় সিআইডি।

পুলিশের ভাষ্য, ফয়সাল রুবেল আহমেদ এ মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’।

গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে রুবেলের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রোর (পূর্ব) সহকারি পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জামাল উদ্দিন মার্জিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তবে রুবেলের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত তার বক্তব্য শুনতে চান।

রুবেল আদালতকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত না। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ, তথ্য যাচাই বাচাই করে দেখতে পারবেন। ফেসবুকে নিজেও হাদি হত্যার বিচার চেয়েছিলাম।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী আমার বন্ধু। করোনার সময় টিম পজিটিভ বাংলাদেশে জয়েন করেছিলাম। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করেছিলাম। কিন্তু আমি রাজনৈতিক কেউ না। আমি চায়না কোম্পানিতে চাকরি করি। আমি শতভাগ নির্দোষ। তদন্ত করলে সবকিছু দেখতে পারবেন।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগে লাইসেন্স বিক্রি নিয়ে ফয়সালের সঙ্গে আমার তিন মিনিট কথা হয়েছিল। আমি শতভাগ নির্দোষ।

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করাসহ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি এবং প্রার্থীদের মনোবলকে দুর্বল করতে রুবেল ও তাঁর সহযোগী, সহায়তাকারী ও অর্থায়নকারী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অজ্ঞাত আসামিদের পরামর্শে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে। ঘটনার পরপর রুবেল আত্মগোপনে চলে যান। তিনি এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। রুবেলের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

পরে আদালত তার ৬ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

মামলাটি প্রথম তদন্ত করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবি তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। প্রধান আসামি ফয়সালসহ ৬ জন পলাতক রয়েছেন।

ডিবির দেওয়া চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে মামলার বাদী গত ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন দাখিল করেন। ওই দিন শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।