খুলনা | শুক্রবার | ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ৯ মাঘ ১৪৩২

নতুন জামা পরে ফ্যাসিবাদ ফিরলে ৫ আগস্টের পরিণতি হবে: জামায়াত আমির

খবর প্রতিবেদন |
০৭:১০ পি.এম | ২২ জানুয়ারী ২০২৬


জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও আমরা আর দেখতে চাই না। যদি নতুন কোনো জামা পরে ফ্যাসিবাদ আবারো সামনে আসে, তাহলে ৫ আগস্টের পরিণতি আবারও ঘটবে। অতীতের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি যেন পুনরায় ফিরে না আসে, এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং ফ্যাসিবাদের যেকোনো চিহ্ন শূন্য করার চেষ্টা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে যারা বসে আছেন, তাদের মধ্যে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ মানুষ গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি, এমনকি অনেকেই জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেননি। যারা এই ভোট কেড়ে নিয়েছিল, তাদের নাম ‘ভোট ডাকাত’। আপনি কি নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান? আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না।এই ৪০ শতাংশ যুবক-যুবতীরাই বিপ্লবের মূল শক্তি। তাদের হাত ধরেই আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং তাদেরই কারণে আজ আমরা জনসমাবেশে কথা বলতে পারছি। ‘আপনাদেরকে স্যালিউট’। কিন্তু কাজ কি এখানেই শেষ হয়ে গেছে? আপনি যে দুঃশাসন, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়েছিলেন—যে ন্যায়বিচার এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেই ন্যায়বিচার কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবোনা।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দখল-বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা—এসব থেকে কর্মীদের বিরত রাখতে পারবে, তারা আগামী বাংলাদেশের জন্য সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারবে। তবে যারা এসব করতে পারে না, তারা যত রঙিন স্বপ্ন দেখাক—জাতি তাদের এই চক্রান্ত বুঝে ফেলবে এবং তাদের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখাবে না। আমরা কারো সমালোচনায় যেতে চাই না, কারণ চারদিকে তাকালে দেখি, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল এবং তাদের মূল দোসর ছিল, তারা এখন দৃশ্যমান নয়। ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ—যে কষ্ট আমরা ভোগ করেছি, তা আর কেউ যেন জনগণকে না দেয়। মেহেরবানী করে এই কষ্ট যেন আর কেউ না দেয়।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও কিছু জায়গায় ফ্যাসিবাদের ছায়া কাজ করছে। যদি এটি বন্ধ না হয়, আগামী ১২ তারিখ জনগণ দুই ধরনের ‘না’ ভোট দেবে এবং অনেকগুলো ‘না’ ভোট দেবে ইনশাআল্লাহ। জনগণের মুখে এখন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনীতির কাঠামো পরিবর্তনের ইচ্ছা স্পষ্ট। তাই গণভোটে তারা ‘হ্যাঁ’ বলবে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় শিশু, তরুণ-যুবক, বৃদ্ধ, নারী—সবাই রাস্তায় নেমেছে। নির্বাচনী মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা মাঠে রয়েছে। তিনি বলেন, ১০ দলকে বিজয়ী করার মানে হচ্ছে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, ব্যাংক ডাকাতদের বিরুদ্ধে ‘হাট’, এবং নারীর ইজ্জতের উপর হাত তোলার বিরুদ্ধে ‘হাট’—এই সব মিলিয়ে একটি বৃহৎ আন্দোলন গড়ে উঠবে।