খুলনা | শনিবার | ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | ১১ মাঘ ১৪৩২

সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়া এখন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই অনিবার্য

|
১২:২৯ এ.এম | ২৩ জানুয়ারী ২০২৬


সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এখন আর শুধু একটি এলাকার নাম নয়, এটি হয়ে উঠেছে অপরাধের এক দুর্ভেদ্য জনপদ। স¤প্রতি সেখানে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাবের নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া শাহাদাতবরণ করেন। এই পাহাড়ি এলাকায় যে অরাজকতা ও পেশিশক্তির শাসন চলছে, তা যেন বলিউডের বিখ্যাত ট্রিলজি ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’-এর বাস্তব চিত্রকে হার মানায়।
ওয়াসিপুরে যেমন কয়লাখনি আর আধিপত্য নিয়ে বংশপরম্পরায় রক্তের হোলিখেলা চলত, জঙ্গল সলিমপুরেও চলছে পাহাড় দখল, প্লট বাণিজ্য এবং মাদকের আধিপত্যের আদিম লড়াই।
নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হওয়া এই জবরদখল আজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দাগি অপরাধীরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পায়। পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি স্থাপন, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জমি বিক্রি আর ছিন্নমূলের নামে চাঁদাবাজির যে সাম্রাজ্য এখানে গড়ে উঠেছে, তার মূল চালিকাশক্তি হলো কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র। ইয়াসিন, মশিউর বা সাদেকদের মতো কুশীলবরা যে ‘গ্যাং কালচার’ তৈরি করেছে, তাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে খোদ প্রশাসনও জিম্মি হয়ে পড়েছে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বারবার অভিযান চালানোর পরও জঙ্গল সলিমপুরকে কলঙ্কমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। অতীতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং গত সোমবার র‌্যাবের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ প্রমাণ করে যে এই সন্ত্রাসীদের ঔদ্ধত্য সীমা ছাড়িয়ে গেছে। র‌্যাব মহাপরিচালকের ঘোষণা অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তবে কেবল গুঁড়িয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং এই অন্ধকার জনপদকে মূলধারার আইনি কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের বক্তব্যে জঙ্গল সলিমপুরে একটি ‘সমন্বিত অভিযান’ বা কম্বাইন্ড অপারেশনের যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, কেবল পেশিশক্তি দিয়ে নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ছাড়া এই ‘মিনি স্টেট’ ভাঙা সম্ভব নয়। সরকারি পাহাড় দখলমুক্ত করার পাশাপাশি যারা টাকার বিনিময়ে সেখানে বসতি গড়েছে, তাদেরও পুনর্বাসন বা সঠিক নথির আওতায় আনা প্রয়োজন, যাতে তারা সন্ত্রাসীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।
আমরা আর কোনো মোতালেব হোসেনের রক্ত দেখতে চাই না। রাষ্ট্রকে তার সর্বশক্তি দিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের অপরাধচক্র ভাঙতে হবে। সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়া এখন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই অনিবার্য।