খুলনা | শনিবার | ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | ১১ মাঘ ১৪৩২

অনিশ্চয়তায় আর্থিক খাত জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

|
১২:২১ এ.এম | ২৪ জানুয়ারী ২০২৬


দেশের আর্থিক খাত বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাজস্ব আদায়ে স্থবিরতা-সব মিলিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও করদাতাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অবশ্য কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এসংক্রান্ত দু’টি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ একদিকে যেমন বহু বছর ধরে জমে থাকা অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও লুটপাটের ফল; অন্যদিকে নীতিনির্ধারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতারও প্রতিফলন।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৯০ শতাংশের বেশি।
এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার ও এস আলমের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের কবজায় ছিল। এই অবসায়নের ফলে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত আটটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার আট কোটি টাকার শেয়ারমূল্য শূন্য হওয়ার পথে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন, পরিচালকদের দুর্নীতি ও লুটপাটের দায় কেন তাঁদের বহন করতে হবে? 
অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নির্ভর করে একটি শক্তিশালী রাজস্ব কাঠামোর ওপর। কিন্তু বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত এখনো সন্তোষজনক নয়।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, করদাতারা যখন দেখেন তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় না হয়ে দুর্নীতি ও অপচয়ের সাগরে যাচ্ছে, তখন তাঁরা কর পরিপালনের আগ্রহ হারান। বর্তমানে করযোগ্য জনগোষ্ঠীর মাত্র ২০ শতাংশ কর দিচ্ছে, যার বোঝা এই সীমিতসংখ্যক মানুষের ওপরই পড়ছে। 
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, শুধু প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা লাইসেন্স বাতিলই সমাধান নয়। প্রথমত, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লুটপাটের সঙ্গে জড়িত পরিচালকদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, পুঁজিবাজারের সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ সুরক্ষা তহবিল গঠন করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, রাজস্ব প্রশাসনে স্বয়ংক্রিয়করণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ কর দিতে উৎসাহিত হয়।
রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্র“তি দিলেও এসব বাস্তবায়নে প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যার জোগান দিতে হলে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে হবে এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। অর্থনীতির সম্ভাবনা, কর উৎস, বেসরকারি খাতের বাস্তবতা বিবেচনা না করে কাগুজে পরিকল্পনায় সমস্যার সমাধান আসবে না।বাংলাদেশের আর্থিক খাত যে আজ গভীর সংকটের মুখে, তা আর আড়াল করার উপায় নেই। আর্থিক খাতের এই ক্ষত নিরাময় না হলে এবং সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দূর না হলে সমৃদ্ধ অর্থনীতির স্বপ্ন অলীকই থেকে যাবে। নীতিনির্ধারকদের উচিত কেবল পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর না করে বাস্তবভিত্তিক ও ন্যায্য সমাধানের পথে হাঁটা।