খুলনা | রবিবার | ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ | ১২ মাঘ ১৪৩২

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে বিবৃতি বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০২:৫৮ পি.এম | ২৫ জানুয়ারী ২০২৬


আগামী মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্য দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ক্রিকেটকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে গতকাল শনিবার ২০ দলের আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফাট বিবৃতিতে বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে প্রত্যাহার এবং এর ফলে ক্রিকেটের শীর্ষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আসর থেকে একটি মূল্যবান ক্রিকেটিং দেশের অনুপস্থিতি আমাদের খেলাটির জন্য, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য এবং সমর্থকদের জন্য দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভাজন বা বর্জনকে জায়গা না দিয়ে আমরা খেলাটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই—সংস্থা, বিভিন্ন লিগ ও খেলোয়াড়সহ সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করে ক্রিকেটকে ঐক্যবদ্ধ করতে, বিভক্ত নয়।’

এই ঘটনা দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটে বিদ্যমান টানাপোড়েনের চিত্রও সামনে এনেছে। ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তান কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজক হলে ভারতকে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলানোর ব্যবস্থা করতে আইসিসিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শনিবার জানিয়েছেন, দেশটির অংশগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত নয়। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখন পাকিস্তানে নেই। তিনি ফিরে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।’ মহসিন নাকভি বর্তমানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন।

টম মফাট বলেন, খেলাটিতে চুক্তি মানা না হওয়া এবং খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শের অভাব নিয়ে ডব্লিউসিএ ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। তার ভাষায়, ‘এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে ক্রিকেটের বিদ্যমান পরিচালন কাঠামোর গুরুতর সমস্যাগুলোকেও সামনে আনছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই সমস্যাগুলো যদি সমাধানহীন থেকে যায়, তাহলে তা বিশ্বাস, ঐক্য এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রিয় খেলাটির ভবিষ্যৎকে দুর্বল করে দেবে।’