খুলনা | বুধবার | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৫ মাঘ ১৪৩২

জাভা দ্বীপে পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৭৯

খবর প্রতিবেদন |
০১:২১ এ.এম | ২৬ জানুয়ারী ২০২৬


ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও প্রায় ৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার যুক্তরাষ্ট্রে ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এ্যাসোসিয়েট প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে। 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম জাভার মাউন্ট বুড়াংরাং ঢাল থেকে নামা এই ধস পাসির লানগু গ্রামের ৩৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়। এতে অনেক মানুষকে কাদা, বড় পাথর এবং বড় গাছের নিচে চাপা পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে অস্থায়ী সরকারি আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে।
স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে একের পর এক চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা ফার্ম টুল এবং নির্দিষ্ট হাতের সাহায্যে কাদাতে ঢেকে থাকা মরদেহ তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব, কারণ ভূমি খুবই নরম এবং অস্থিতিশীল। উদ্ধারকর্মীরা কাদা মধ্য দিয়ে সাবধানে এগোতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট গিবরান রাকাবুমিং রাকা শনিবার ওই স্থান পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার জন্য দায়িত্বশীল এলাকাগুলোর ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ করে পশ্চিম জাভা ও পশ্চিম বন্দুংকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ভূমি পরিবর্তনের সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
উদ্ধার কাজের ব্যাখ্যা দেন বসার্নাস প্রধান মোহাম্মদ শাফি। তিনি জানান, খারাপ আবহাওয়া এবং বিস্তীর্ণ ভূপ্রকৃতি উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে। আমরা আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল এবং ধস এখনও চলমান ও অস্থিতিশীল। তাই আমাদের সকল সম্পদ ব্যবহার করতে হবে, যেমন-ড্রোন, কুকুর, কিন্তু প্রথমেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিটি বছর অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টি এবং উচ্চ জোয়ারের কারণে নিয়মিত বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। দেশটি ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত, যেখানে কোটি কোটি মানুষ পাহাড়ি এলাকা বা উর্বর তীরবর্তী সমতল এলাকায় বসবাস করেন। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় স¤প্রদায়ের জীবনযাত্রা সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং পুনর্বাসন ও উদ্ধার কার্যক্রমে সময়ও বেশি লাগে।