খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৬ মাঘ ১৪৩২

রমজানের আগেই বাজার অস্থির, অজুহাত নয়, দরকার কঠোর ব্যবস্থা

|
১২:২৬ এ.এম | ২৭ জানুয়ারী ২০২৬


পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো মাসখানেক বাকি, অথচ এরই মধ্যে নিত্যপণ্যের বাজার যে রূপ ধারণ করেছে, তা সাধারণ ভোক্তার জন্য রীতিমতো শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরই রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারের চিত্রও ভিন্ন দেখা যাচ্ছে না। সয়াবিন, চিনি, ডাল, ছোলা ও আদার মতো অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম পাইকারি ও খুচরা-উভয় পর্যায়েই বাড়ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবার কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই; বরং গত বছরের তুলনায় কোনো কোনো পণ্য দ্বিগুণ আমদানির তথ্য দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
ব্যবসায়ীদের কাছে অজুহাতের শেষ নেই। প্রতিবারই কোনো না কোনো অজুহাত পেশ করে। এবার সেই অজুহাতের নাম-চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও লাইটার জাহাজের সংকট। বন্দরের আউটারে নাকি প্রায় ৪৫ লাখ টন ভোগ্যপণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি যদি সত্য হয়, তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এতদিন কী করছিল? অর্থনীতিবিদ ও ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো যথার্থই বলছে, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মুনাফা লোটার জন্য সবসময়ই কোনো না কোনো ছুতা খোঁজে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে আগের বছরের তুলনায় খেজুর, ছোলা বা ডালের এলসি খোলার পরিমাণ অনেক বেশি থাকা সত্তে¡ও দাম বাড়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না।
রমজান মাস সংযমের মাস হলেও একশ্রেণির ব্যবসায়ীর কাছে এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে মুনাফার হাতিয়ার। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে কেবল আশ্বাসে কাজ হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কেবল লোকদেখানো অভিযান চালালে চলবে না, বরং প্রতিটি ধাপে ‘মনিটরিং’ জোরদার করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের জট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আটকে থাকা ভোগ্যপণ্যগুলো বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
সরকারকে মনে রাখতে হবে, খাদ্যনিরাপত্তা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। যদি এই মুহূর্তে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সিন্ডিকেট ও সরবরাহ জট ভাঙা না যায়, তবে রমজান শুরু হলে মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। আমরা আশা করি, সরকার গুটিকতক অসাধু ব্যবসায়ীর স্বার্থের চেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের কষ্ট লাঘবকে বেশি গুরুত্ব দেবে।