খুলনা | বুধবার | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৪ মাঘ ১৪৩২

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

খবর প্রতিবেদন |
০৬:৪৬ পি.এম | ২৭ জানুয়ারী ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মোবাইল কোড প্রতিদিনই তারা তাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি, মিনিমাম ৫০-৭০টি কেস রুজু হচ্ছে, কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম আপনার জোরশোরে চলছে।’

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। বাট পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।’

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।’

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিসিটিভির আপডেটটা এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসবে। এলে আপনাদেরকে জানাব।’

ভোটারদের উদ্দেশে কী বলবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোটারদের উদ্দেশে বলব, সবাই ভোট দেন। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। আপনার যাকে খুশি তাকে। নিশ্চয়তা শতভাগ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে এবং এটার জন্য সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী তারপর নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ বাহিনী, আনসার বাহিনী এমনকি আমরা বিএনসিসিকেও আমরা অন্তর্ভুক্ত করছি, যাতে জনগণ বিশ্বাস করে যে, নিরাপদে এসে ভোট কেন্দ্রে যাবে এবং ভোট দিয়ে এসে বাড়িতে ফিরবে এবং ভোট পরবর্তী সময়েও কোনো উশৃঙ্খল বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটবে না।’

জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধকরণ ও ভোটের বাইরে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো পার্টিকে নিষিদ্ধের বিষয়ে, যারা নিষিদ্ধ করবেন (সরকার) বা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করবেন- এরকম কোনো আদেশ পাইনি। সুতরাং আমরা মনে করি, যারা নিবন্ধিত দল, যারা নমিনেশন পেয়েছেন, তারা নির্বাচন করবেন।’

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদেরকে একত্র করে তাদেরকে অঙ্গীকার করিয়েছে যে, আমরা আচরণবিধি পরিপন্থী কাজ করব না। এটি কিন্তু ভালো ফল দিয়েছে। অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে আমি বলব না শতভাগ আচরণবিধি কার্যক্রম হয়েছে। কিন্তু আপনারা রাস্তাঘাটে মাঠে-ময়দানে বাজারে গেলে নিজেরাই বুঝতে পারেন, এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার কারণ কী? কারণ হচ্ছে, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থী এবং দল যে অঙ্গীকার করেছে, সে অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ, পাশাপাশি আমাদের রিটার্নিং অফিসার এবং মাঠে যারা নির্বাচনি কাজে রয়েছেন, তারা কিন্তু উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই উদ্বুদ্ধকরণের ফলশ্রুতিতেই আমরা আচরণবিধি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করতে পেরেছি বলে নির্বাচন কমিশন মনে করে। আমরা মনে করি, সবচেয়ে ভালো পরিবেশ এখন পর্যন্ত বিরাজ করছে।’