খুলনা | বুধবার | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৪ মাঘ ১৪৩২

সামরিক ড্রোন তৈরির যুগে বাংলাদেশের পদার্পণ, চীনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই

খবর প্রতিবেদন |
১১:৩৯ পি.এম | ২৭ জানুয়ারী ২০২৬


সামরিক ড্রোন বা ‘মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি)’ তৈরির যুগে পদার্পণ করল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি)’ উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্পের জন্য চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

‘গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্টে’র (জিটুজি) আওতায় ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসময় বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথভাবে বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন সুবিধা স্থাপন করবে।

এর মধ্যে রয়েছে, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প-দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যা দীর্ঘমেয়াদে ইউএভি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সহায়ক হবে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের ‘মিডিয়াম আল্টিটিউড লো এন্ডুরেন্স (মেল) ড্রোন এবং ভার্টিক্যাল টেক-অব অ্যান্ড ল্যান্ডিং (ভিটিওএল) ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে।

এছাড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী নিজস্ব ইউএভি বা ড্রোন এই প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন করবে। এই ইউএভিগুলো সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে দেশীয় ইউএভি বা ড্রোন উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সক্ষমতা সম্প্রসারিত হবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষ অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতেও উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখবে।

এ চুক্তি সই অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।