খুলনা | বুধবার | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৫ মাঘ ১৪৩২

খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতের আমীর

জনগণের রায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পেলে বন্ধ মিল কারখানা চালু, নতুন নতুন কারখানা স্থাপন হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:১৭ এ.এম | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬


জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি দল একদিকে দিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড; অন্যদিকে দিচ্ছে মা বোনদের গায়ে হাত। যারা মাকে অসম্মানিত করছেন, তাদেরকে ক্ষমা চাওয়ার আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগনের রায়ে আস্থা রাখুন। অতীতে যারা আস্থা রাখেননি তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। হামলার সাথে জড়িতদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখন মাঘ মাস। এখনই যদি মাথা এতো গরম থাকে, তাহলে চৈত্র এলে কি করবেন? গতকাল মঙ্গলবার খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে মহানগর ও জেলা জামায়াতের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের ভুলনীতি ও লুটপাটে একের পর এক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে। জামায়াত আল­াহর ইচ্ছায় ও জনগনের রায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পেলে বন্ধ মিল কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন কারখানা স্থাপন হবে। তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদেরকে অপমান করতে চাই না। আমার তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদেরকে সম্মানিত করতে চাই। জুলাই বিপ্লবে তাদের যে অবদান, কিছুটা হলেও তার ঋণ শোধ করতে চাই।
জামায়াত আমীর জনসভায় আগত সবাইকে জনগণের ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহŸান জানিয়ে বলেন, আপনারা প্রত্যেকটি নর-নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। কিন্তু আমরা বাক্স পর্যন্ত ভোটারকে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্র“য়ারি আমার একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালে এবং তারও আগে ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তান্ডবে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। সেই সাথে আহত, পঙ্গু, কারা নির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, আজ আমি এখানে জামায়াতের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়াইনি। বিগত ১৬ বছর যে সকল মায়ের বাবার বুক খালি করা হয়েছে, যে সকল বোনের কাছ থেকে স্বামীকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যে সকল শিশুকে পিতাহারা করা হয়েছে-আমি তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছি। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে, ব্যাংক লুট করে, শেয়ার বাজার লুটপাট করে বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়েছিল।
জামায়াতের ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর অতীতে জুলুম অন্যায় করা হলেও ৫ আগস্টের পরে প্রতিহিংসা পরায়ণ না দলের প্রতিটি নেতাকর্মী পাহারাদারের ভ‚মিকা পালন করেছিলেন জানিয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে প্রমাণিত হয়েছে কাদের কাছে তারা নিরাপদ। ফলে আল­াহর ইচ্ছায় জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দলের মন্ত্রী এমপিদের নিজস্ব কোন লাভালাভ নয়, বরং গোটা বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল শক্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড় করানো হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
অনেকেই পুরাতন ফ্যাসিবাদের অ্যাপ্রোন গায়ে দিতে চাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে এ দেশের যুব সমাজ জানিয়ে দিয়েছে তা আর সম্ভব নয়। ৫টা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে যুব সমাজ তা জানিয়ে দিয়েছে।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অনেকেই সন্ত্রাস, গুজব ও মিথ্যা ছড়িয়ে জোর করে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে। যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ, লুটপাট করে ক্ষমতায় যেতে চায়, দেশের জনগন তাদেরকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না। সনাতন ধর্মের মানুষদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। আগামী নির্বাচনে জামায়াত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ডাঃ শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন মানবিক বাংলাদেশ গঠন করা এবং খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল কারখানা চালু, পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ, বন্দর নগরী খুলনায় আধুনিক বিমান বন্দর স্থাপন এবং ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবকে কেন্দ্র করে পর্যটর শিল্পের বিকাশের প্রতিশ্র“তি দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্র শিবির বিজয় লাভের পর ক্যাম্পাস থেকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত হয়েছে। এটা একটা নমুনা। আগামী দিনে জনগণ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় পাঠালে বিপ্লব উত্তর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মূখপাত্র রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মহানগর সেক্রেটারি এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী।
এতে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগর নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জাগপা’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়ক নিজাম উদ্দিন অমিত, এনসিপি’র জেলা আহŸায়ক মোঃ ফয়জুল­াহ, এবি পার্টি’র যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিক মোড়ল, লেবার পার্টির প্রতিনিধি মোঃ সাইফুদ্দোহা, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার, খেলাফত মজলিস জেলা সভাপতি মাওলানা এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম, মহানগর সভাপতি এফ এম হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহানগর সভাপতি এড. হানিফ উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ ইব্রাহিম খলিল, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ জাকির হোসেন খান, মহানগর জামায়াতের সহকারী এড. শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, এড. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, জেলা উত্তরের সভাপতি ইউসুফ ফকির, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু জার গিফারীসহ ১১দলের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। খুলনার কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক  পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভার শুরুতে ইসলামী সংগীত পরিবেশন প্রেরণা সাহিত্য সংসদ ও টাইফুন শিল্পী গোষ্ঠী।