খুলনা | বুধবার | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৪ মাঘ ১৪৩২

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল দেবে না অন্তর্বর্তী সরকার: ফাওজুল কবির

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৮ এ.এম | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬


বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর মাত্র ১৫ দিনের মতো বাকি। এই বাস্তবতা সামনে রেখেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানিয়েছেন, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেবে না বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।

নতুন বেতন কাঠামো ঘিরে সারা দেশে যখন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহল বাড়ছে, তখনই এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করলেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক। অর্থ উপদেষ্টা অসুস্থ থাকায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামোসহ অর্থনৈতিক নানা বিষয় উঠে আসে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কেবল নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে। তবে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা বা অনুমোদন হয়নি বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে একটি বেতন কমিশন গঠনের দাবি ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই কমিশন গঠন করা হয় এবং কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন গ্রহণ মানেই তা সরাসরি বাস্তবায়নের পথে যাওয়া নয়। এখনো বেশ কিছু আনুষ্ঠানিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, কমিশনের সুপারিশগুলো আরও গভীরভাবে যাচাই করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আর্থিক সংস্থান, বাজেটের চাপ ও বাস্তবায়নের সময়সূচিসহ সব দিক পর্যালোচনা করে আলাদা সুপারিশ দেবে। সেই সুপারিশের আলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। প্রয়োজনে নতুন সরকার চাইলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগও থাকবে।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে। বাস্তবে সাধারণত এ ধরনের বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে অর্থনীতির ওপর একসঙ্গে বড় চাপ না পড়ে। তিনি আরও বলেন, বেতন কমিশন ইস্যুতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। আন্দোলন ও বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। নতুন সরকার যেন দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই এমন অচল পরিস্থিতির মুখে না পড়ে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বেতন কমিশনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা। তাঁর মতে, যেহেতু এখনো কোনো বাস্তবায়নমূলক সিদ্ধান্ত হয়নি, তাই মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়ার প্রশ্নই আসে না।

মন্ত্রীদের জন্য ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রস্তাব সম্পর্কে এই উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়নি এবং তিনি নিজেও এমন কিছু দেখেননি।