খুলনা | বুধবার | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৪ মাঘ ১৪৩২

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর আহত

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৭ এ.এম | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬


মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালীস্থল এলাকায় কেউড়া বাগানে এ ঘটনা ঘটে।  আহত গুলিবিদ্ধ কিশোররা হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কানজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সোহেল (১৩) ও মোঃ ওবাইদ উল­াহ (১৫)। তারা উভয়েই বাংলাদেশি নাগরিক।  
স্থানীয় ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে ইউনিয়নের ঝিমংখালীস্থল এলাকায় কেউড়া বাগানে লাকরী কুড়াতে যায় ওই দুই কিশোর।  এ সময় হঠাৎ মিয়ানমারের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে ছোড়া গুলি এসে ওই দুই কিশোরের শরীরে লাগে। পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা দু’জনই উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত গুলিবিদ্ধ মোঃ সোহেলের মামা মোঃ ইসমাইল বলেন, গুলিবিদ্ধ আহত দুইজনই আমার আত্মীয়। সকালে তারা হোয়াইংয়ে ঝিমংখালী এলাকায় কেউড়া বাগানে লাকরী কুড়াতে যায়। এ সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া একাধিক গুলিতে তারা আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে উখিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। একজনের পা-বুকে এবং অন্যজনের বুকে গুলি লাগে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনার পর সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা ভয়ভীতি মধ্য রয়েছে। 
এ বিষয়ে ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারে অভ্যন্তরে সকালে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। কিন্তু এ দু’জন মিয়ানমারের সীমানায় গিয়ে আহত হয়েছে। তবুও বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। এছাড়া সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে। 
গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। এর পরের দিন একই এলাকায় সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন থেকেই সীমান্তে বসবাসকারীরা আতঙ্কের দিন পার করে আসছিল।
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ থামছে না। এছাড়া রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে সরকারি জান্তা বাহিনী। অন্যদিকে আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠী। এ কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে।