খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৬ মাঘ ১৪৩২

‘জুলাই সনদ’ জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর চুক্তি: আলী রীয়াজ

খবর প্রতিবেদন |
০৬:১৫ পি.এম | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬


প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি চুক্তি। ৩০টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ নয় মাসের ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে এই এজেন্ডা তৈরি করেছে। চুক্তিটি বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বর্তায়। এটি কোনো চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, বরং অগণিত শহীদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথপ্রদর্শক।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রীয়াজ এসব বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, গণঅভ্যুত্থান রায় দিয়েছে যে, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং অন্যায়কারীদের বিচার করতে হবে। আর এই রায়ের আলোকে দেশে কেউ ফ্যাসিবাদী কিংবা জমিদারিতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে এগোতে হলে ভোটই একমাত্র বিকল্প।

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা জীবন বাজি রেখে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি এনেছে। এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ শক্তিশালী করতে হবে, যাতে প্রত্যেকেই রাষ্ট্রের মালিকানার অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে স্বাধীনভাবে ও মুক্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে এবং গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দিতে হবে।

আলী রীয়াজ বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ, সাম্যভিত্তিক, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যেককে ১২ ফেব্রুয়ারি হ্যাঁর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির। আরও বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের সম্মানীয় ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক। বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এ আলোচনায় অংশ নেন।