খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৬ মাঘ ১৪৩২

‘প্রার্থী থেকে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা’

খবর প্রতিবেদন |
১২:৫১ পি.এম | ২৯ জানুয়ারী ২০২৬


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা প্রার্থী বা নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট বা তাদের কর্মী বা সমর্থকসহ যে কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে খাবার, পানীয় বা অন্য কোন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) তাহমিদা আহমদ।

সম্প্রতি জারি করা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সার্বিক পর্যালোচনা বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য এসব কথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত এক কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ওই সভায় তিনি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্বাচনে সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র ও ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে এবং ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৮ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রদান এবং তাদের জন্য কার্যকর প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ নির্বাচনের ৪ থেকে ৫ দিন পূর্বে শেষ করার জন্য ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণকালে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাগণকে কঠোরভাবে অবহিত করতে হবে যে, প্রার্থী বা নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট বা তাদের কর্মী বা সমর্থকসহ যে কোনো ব্যক্তি নিকট থেকে খাবার, পানীয় বা অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা গ্রহণ যাবে না। এছাড়াও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা, ভোট গণনা, ফলাফল প্রেরণ এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বাদ দিয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত করতে হবে। তবে কোথাও ভোটগ্রহণের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় যাচাই বাছাই করে নিয়োগ প্রদান করা যাবে।

ওই সভায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে- প্রার্থী বা নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট বা তাদের কর্মী বা সমর্থকসহ যে কোনো ব্যক্তি নিকট থেকে খাবার, পানীয় বা অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না। বেসরকারি ব্যাংক থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ এড়াতে হবে। একান্ত প্রয়োজন হলে যাচাই বাছাই সাপেক্ষে নিয়োগ প্রদান করা যাবে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশনের আইন, বিধি, ফরম ও প্যাকেট সম্পর্কে অবহিত করার জন্য প্রশিক্ষকগণকে নির্দেশনা প্রদান করা।

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চলবে। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।